সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এর পরিচয়

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কী তার পরিচয়?

ঘনিয়ে আসছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। কে হবে, কে হবে না বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি তা নিয়ে চলছিলো গুঞ্জন।  সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো সাহাবুদ্দীন চুপ্পুকে মনোনয়ন দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতী ও সাংসদীয় দলের প্রধান বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী বেগম শেখ হাসিনা এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। 

আজ ১২ ই ফেব্রুয়াই রোজ রবিবার রোববার আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচনে তার মনোনয়ন পত্র উপস্থাপন করেন। ওবায়দুল কাদের এর সভাপতিত্বে এই মনোনয়ন পত্র জমা দেয়া হয়। 

দেশের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়ে অংশগ্রহণ করেন। আর নির্বাচনের প্রার্থীর সমর্থকও হতে হয় তাদের। ওবায়দুল কাদের চুপ্পুকে নির্বাচনের মনোয়নের জন্য প্রস্তাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর সমর্থক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ। 

জাতীয় পার্টি যা বর্তমানে বিরোধী দল হিসেবে সংসদে রয়েছে তারা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছিলো যে তারা এই নির্বাচনে প্রার্থী দিবে না। সংসদে আর কোন সক্রিয় দল না থাকায় আওয়ামী লীগই প্রার্থী দেবে। 

আজ রোববার সকাল ১০টা৪টার মধ্যে , তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করার কথা। 

সোমবার আগামীকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাইয়ের কাজ। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ১৪ই ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতঃপর জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সে দুপুর ২টা৫টা পর্যন্ত আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদে দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছরের জন্য অধিষ্ঠিত হবেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ আগামী ২৩ এপ্রিল  শেষ হবে।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এর পরিচয়

মনোনীত প্রার্থী সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য। তিনি ১৯৪৯ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন।

এর আগে চুপ্পু দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কমিশনার হিসেবে এবং জেলা ও দায়রা জজ এর  দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১৯৭১ সালে  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৮২ সালে চুপ্পু বিসিএস (বিচার) বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৯৫ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন।

২০০১ সালে যখন  বিএনপিজামায়াত জোট ক্ষমতায় আসীন হয় ঠিক তার পরেই আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা হয়। ওই সময় ধর্ষণ, হত্যা ও  লুণ্ঠনের ঘটনাও ঘটতে থাকে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় বসলে ওসব ঘটনার তদন্তে সাহাবুদ্দিন চুপ্‌পু কে প্রধান করেকমিশনগঠন করে

ছাত্র জীবনে তিনি পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। পরবর্তীতে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে চুপ্পু ১৯৭৪ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে সংঘটিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর কারাবরণ করেন।

চুপ্পু আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে এক পুত্র সন্তানের পিতা এবং তার স্ত্রী প্রফেসর ড. রেবেকা সুলতানা সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button