সড়ক দূর্ঘটনা রোধের প্রচেষ্টায় নিজ উদ্যোগে বিদ্যুৎ বড়ুয়া

প্রতিদিনের সড়ক দূর্ঘটনার বীভৎস লাশের খবর দেখতে দেখতে আমাদের স্বাভাবিক বিষয়ের মতো হয়ে গেছে।
কিন্তু নিহতের পরিবারের কাছে সেই ব্যক্তিতো একজন সদস্য। কারো স্বামী/স্থী,ছেলে/মেয়ে, ভাই/বোন, বাবা/মা বা অন্য আত্মীয়।
তাদের কান্নার চিৎকার শুনলে ও কারো কিছু করার থাকে না।
সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হওয়া মানুষটিই হয়তো পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। যার মাধ্যমে চলে সংসারের খরচ ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া।পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ে অনিশ্চিত।
আমাদের দেশে সড়ক দূর্ঘটনার কারণ গুলো আমরা কমবেশি সবাই জানি। নিয়ম না মানা,বেপরোয়া
বা অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ী চালানো,অসচেতনতা, ত্রুটিপূর্ণ রাস্তা ব্যবস্থা সড়ক দূর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
হয়তো মনে হবে ছোট বিষয় তাই সেটাকে গুরুত্ব সহকারে দেখে না গাড়ী চালক, রাস্তা পারাপারকারি অথবা কতৃপক্ষ। তবে এই সব ছোট ছোট বিষয় গুলোর কারণে ও অনেক বড় দূর্ঘটনা হয়ে যায়।
যদি এইসব ছোট খাটো বিষয় গুলো চিহ্নিত করে তৎক্ষনাৎ প্রাথমিকভাবে কোন উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে অনেক কিছু সম্ভব না হলেও কিছু টা উপকারী।হতে পারে চালকদের সর্তকবার্তা অথবা কতৃপক্ষের নজরে পড়া৷ তখন হয়তো প্রাথমিক অবস্থা থেকে সম্পূর্ণভাবে সমস্যাটার সমাধান সম্ভব।

আরো পড়ুনঃ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়ার পরিচয়

বিদ্যুৎ বড়ুয়া পরিচয়

আজ ১২ই অক্টোবর রোজ: বৃহস্পতিবার এই কাজটি করেছেন চট্টগ্রামে ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া।
যিনি ফ্লাইওভারে দুই ডিভাইডার নিজ হাতে রং দিয়ে সতর্ককরণী নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রতিকি কাজের মাধ্যমে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এর চেষ্টা এবং এতে যদি একটি ও দূর্ঘটনা রোধ হয় তাহলে তিনি খুশী।
জানা যায় গত ১১ই অক্টোবর সেই ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি উনার নজরে পড়ে সেই সময় তিনি গাড়ী থামিয়ে ছবি তোলেন এবং জনস্বার্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন।
এরপর ও নিজের মানসিক শান্তনা ও মানবিক তারণা থেকে আজ নিজে গিয়ে নজরে পড়া সেই ফ্লাইওভারের দুই ডিভাইডার গুলো রং করে দেন।উল্ল্যেখ্য ডা.বিদ্যুৎ বড়ুয়া করোনার মহামারীতে চট্টগ্রাম ফ্লিড হাসাপাতাল তৈরী করে মানবতার বিশাল অবদান রেখেছেন। বর্তমানে ও বিদ্যুৎ বড়ুয়ার উদ্যোগে প্রতি সপ্তাহে ফ্রী স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়।

সড়ক দূর্ঘটনার এই প্রতিযোগিতা দিন দিন বেড়েই চলছে বলা যায়। প্রতিদিন কোন না কোন সড়ক দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটে চলছে। সঠিক সঠক ব্যবস্থা,ট্রাফিক আাইন, সচেতনতা, মানবিকতা এইসবের দিকে নজর দিতে হবে।

বাড়াতে হবে নিজ থেকে দ্বায়িত্ব পালনের সদিচ্ছা।
আমরা নিজেদের জায়গা থেকে যতক্ষণ না পর্যন্ত চাইবো ততক্ষণ পর্যন্ত কোন কিছু সম্ভব না সেটা ভালো কাজ হোক বা খারাপ কাজ।
চাওয়াটা নিজেদের থেকে চাইতে হবে যে আমি কি চাই। সড়ক দূর্ঘটনা নাকি নিজেদের অবস্থানে থেকে দূর্ঘটনা রোধ করা। আমাদের দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। সরকার, মালিক – চালক,শ্রমিক ও যাত্রী সবারই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button