শুষ্ক ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো | জানুন বিস্তারিত

ত্বকের ধরন ভেদে প্রতিটি ত্বকের পরিচর্যার ধরনও আলাদা হয়। সব ধরনের ত্বকে একই ফেসওয়াশ মানায় না। কিছু ফেসওয়াশ ব্যবহারের পর ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় যা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপযোগী হলেও শুষ্ক ত্বকে এমন ফেসওয়াশ একেবারেই ব্যবহার করা উচিৎ নয় । এতে ত্বক আরো বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। সেই সাথে ত্বকের চামড়া ওঠা , র‍্যাশ , ফেটে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যার উদ্রেক হয়। এ ধরনের ত্বকে এমন ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিৎ যাতে করে ত্বকের স্বাভাবিক আদ্রতা বজায় থাকে। যাইহোক , এখন প্রথম প্রশ্নটি টি হলো আপনি কি জানেন শুষ্ক ত্বক কি? এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো? যদি না জেনে থাকেন তবেন চলুন জেনে নেয়া যাক শুষ্ক ত্বক বলতে বোঝায় এমন ত্বক যা রুক্ষ, খসখসে ও অমসৃণ । এ ধরনের ত্বকে আদ্রতার অভাবে চুলকানিও দেখা দিতে পারে। ত্বক দেখতে নিষ্প্রান লাগে। সেই সাথে শুষ্ক ত্বকের রোমকূপগুলো খুব ছোট ও টাইট হয়। কেউ কেউ জেনেটিকালি এমন ত্বকের অধিকারী হয়ে থাকে । আবার কারো কারো ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তন এর কারনে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও অনেক সময় দেখা যায় শীতকালে বাতাসে জলীয়বাষ্প কমে যাওয়ায় ত্বক থেকে পানি শুষে নেয় যার ফলে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। অতিরিক্ত ক্ষারজাতীয় সাবান বা ফেসওয়াশ ত্বকের পানি ও তেল বেশি পরিমানে শুষে নেয়। এটিও ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার অন্যতম একটি কারন। তাই এ ধরনের
ক্লিঞ্জার এড়িয়ে চলাই উচিৎ ।শুষ্ক ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো যদি ত্বক কখনো অতিরিক্ত মাত্রায় শুষ্ক হয়ে যায় তাহলে বুঝবেন আপনার শরীরে ভিটামিন ডি এর পরিমান কমে গিয়েছে। একই সমস্যা ভিটামিন ই এর অভাবেও পরিলক্ষিত হয় । এ দুটি ভিটামিন ছাড়াও এমন কিছু খনিজ পদার্থ আছে যেগুলোর অভাবেও ত্বক রুক্ষ ও নিষ্প্রান দেখাতে পারে যেমন, জিংক , আয়রন, নিয়াসিন
ইত্যাদি। আরো একটি ভিটামিন আছে যা ত্বককে মসৃণ এবং আদ্র রাখতে সাহায্য করে, তা হলো ভিতামিন এ । এই ভিটামিন এবং খনিজগুলোর অভাবে ত্বকের বিকাশ ঠিকমতো হয়না এবং স্কিনের জন্য প্রয়োজনীয় তেল ও পানির ভারসাম্যও থাকেনা। তাই ত্বক
হয়ে পড়ে মলিন। এমনকি ত্বক একেবারে নষ্টও হয়ে যেতে পারে । যাইহোক , যে ফেসওয়াশগুলো শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো সেগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিন বিবরন নিচে দেয়া হলো।

সেরাভি হাইড্রেটিং ক্লিনজার:

শুষ্ক ত্বকের জন্য খুবই কার্যকরী একটি ফেসওয়াশ হলো সেরাভি হাইড্রেটিং ক্লিনজার। ফেসওয়াশটি নন গ্রিজি । অর্থাৎ এই ফেসওয়াশটি ত্বককে কোমল করবে ঠিকই কিন্তু তেলতেলে করে দিবে না। এটি ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করার সময় ত্বকের ময়েশ্চার লেভেলকে নষ্ট করে দেয়না ফলে ত্বক হাইড্রেটেড থাকে। যারা স্কিন কেয়ারের জন্য একটু দামি প্রোডাক্ট পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি হতে পারে
একটি চমৎকার ফেসওয়াশ। এর উপকারিতাগুলো হলঃ
১। ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে
২। ত্বককে নরম ও কোমল করে দেয়
৩। এটি একটি নন কমেডোজেনিক, ফ্র্যাগরেন্স ফ্রি ও প্যারাবেন ফ্রি একটি
ফেসওয়াশ
৪। এটি ত্বকে লোশনের মতো মিশে যায়।
৫। মেকাপ রিমুভার হিসেবেও কাজ করে।
এতে থাকা উপাদানসমূহঃ
১। গ্লিসারিন
২। সিরামিড
৩। হাইয়ালুরনিক এসিড

এ আর ভিটামিন ই ফেসওয়াশ:

এ আর ভিটামিন ই ফেসওয়াশটি শুষ্ক ত্বকের জন্য খুবই উপযুক্ত একটি পরিষ্কারক। বিশেষ করে যাদের ত্বক ভিটামিন ই এর অভাবে শুষ্ক হয়ে যায় তারা এটি ব্যাবহার করতে পারেন। তাই বলে যে অন্যরা ব্যবহার করতে পারবেন না তা কিন্তু নয় , এই ফেসওয়াশটি তৈলাক্ত ত্বকেও মানিয়ে যায়। ফেসওয়াশটি ত্বকের ময়লা দূর করার সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় না । অনেক ফেসওয়াশ ব্যবহারের পর ত্বক একেবারে শুষ্ক হয়ে যায় কিন্তু এটি ব্যবহারের পর এমন সমস্যা পরিলক্ষিত হয়না বরং ত্বক কোমল ও আদ্র থাকে।

এ আর ভিটামিন ই ফেসওয়াশ এর উপকারিতাগুলোঃ
১।ত্বক নরম ও মসৃণ করে
২। স্কিনে পুষ্টি যোগায়
৩। ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে
৪। পোরস ছোট করে
৫। ব্রণ দূর করে
৬। কালো দাগ দূর করে
৭। ত্বক উজ্জ্বল ও গ্লোয়িং করে
এতে বিদ্যমান উপকরনসমূহঃ
১ ভিটামিন ই
২। কোলাজেন
৩। গ্লুটা
৪। হাইড্রোলাইজড মিল্ক প্রোটিন
৫। পানি
৬। গ্লকোজ

অ্যারোমা ম্যাজিক ল্যাভেন্ডার ফেসওয়াশ: 

এই ফেসওয়াশটি খুব আলতোভাবে আপনার ত্বককে পরিষ্কার করে দিবে। এর ফলে আপনার ত্বক খুব ভালোভাবে পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি নরম ও হবে। অ্যারোমা ম্যাজিক ল্যাভেন্ডার ফেসওয়াশে কোন এলকোহল ,ক্ষতিকর ক্যামিকেল, প্যারাবেন ও কৃত্তিম গন্ধ নেই। সুতরাং এটি ব্যবহার করা ত্বকের জন্য নিরাপদ। ত্বককে কোমল রাখার জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে ল্যাভেন্ডার এর নির্যাস এবং শিয়া বাটার। এ দুটি উপাদান একত্রে ত্বককে অকালে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রেহাই দেয়। এতে কোন সোপ ও ব্যবহার করা হয়না যার ফলে সকল ধরনের ত্বকের ক্ষেত্রেই এ ফেসওয়াশটি প্রযোয্য। এটি আপনার যে উপকারগুলো করবে তা হলঃ

১।ত্বককে পরিষ্কার করবে
২। বয়সের ছাপ পরতে দিবে না
৩। শুষ্ক ভাব দূর করবে
৪। ল্যাভেন্ডার ও শিয়া বাটার স্কিনকে মোলায়েম করবে
৫। এতে থাকা কমলালেবুর নির্যাস ব্রণ , বলিরেখা ইত্যাদি নিরাময়ে সাহায্য করবে
এর উপাদানসমুহ
১। একুয়া
২। অলিভ এসটারস
৩। রোজ সেন্টিফোলিয়া অয়েল
৪। গ্লাইসিন এক্সট্র্যাক্ট
৫। ডেসিল গ্লুকোসাইড
৬। ল্যাভেন্ডুলা অগাস্টিফোলিয়া অয়েল
৭। বাটিরোজপারমাম পার্কি বাটার

দ্যা বডি শপ ভিটামিন ই জেন্টাল ফেসিয়াল ওয়াশ:

এটি দ্যা বডি শপ ব্র‍্যান্ডের ভিটামিন ই সমৃদ্ধ একটি খুবই উপকারী ফেসওয়াশ। বিশেষত শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি খুবই কার্যকরী। ভিটামিন ই এবং গমের জীবানু তেল সমৃদ্ধ এই তেলটি ত্বককে কোমল ও মসৃন করে তোলে। এটি ত্বককে উজ্জ্বল ও পরিষ্কার করে।

এর দ্বারা যে উপকারগুলো পাবেন :
১. ত্বককে হাইড্রেট করে
২. শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বক থেকে মুক্তি দিবে
৩. ত্বকের চুলকানি দূর করবে
৪.ত্বককে উজ্জ্বল করবে
৫.সেবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রন করবে
৬. পোরসগুলো থেকে ব্যাকটেরিয়া ও ময়লা দূর করবে

এতে বিদ্যমান উপাদানসমূহ :
১. একুয়া
২. কোকো- গ্লুকোসাইড
৩.কোকামিডোপ্রপিল বিটাইন
৪.লিনালল
৫.সিট্রানিলল
৬.বেঞ্জিল বেঞ্জোয়েট
৭.বেঞ্জিল এলকোহল
৮.লিমোনিন
৯.সাইট্রিক এসিড
১০.সোডিয়াম লরেল সালফেট
১১.ট্রিটিকাম ভালগারি জার্ম অয়েল

লাইলাক ব্রাইটেনিং ফেসওয়াশ:

যারা প্যারাবেন ফ্রি ফেসওয়াশ খুজছেন তাদের জন্য লাইলাক ব্রাইটেনিং ফেসওয়াশ একটি খুব ভালো সমাধান হতে পারে। এটি ব্যবহারের পর ত্বক একেবারে শুকিয়ে যায়না বরং প্র‍য়োজনীয় আদ্রতা ধরে রাখে। এতে করে একদিকে যেমন ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়না অন্যদিকে তেলতেলেও হয়ে যায়না।এটি ত্বককে হেলদি করে তোলে। যাদের ত্বকে এলার্জির কারনে কোন ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন তা নিয়ে চিন্তিত, তারা নিশ্চিন্তে এই প্রডাক্টটি ইউজ করতে পারেন।

এর উপকারিতাগুলো হলো :
১. ত্বককে ক্লিন করে ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল
২. প্রয়োজনীয় ময়েশ্চার ধরে রাখে
৩.প্যারাবিন ফ্রি
৪. ভেগান উপাদান দিয়ে তৈরি

৫.হাইপো-এলার্জেটিক, তাই যাদের এলার্জি বা সেন্সিটিভ স্কিন তারাও ব্যবহার
করতে পারবেন

শুষ্ক ত্বকের অধিকারী ব্যক্তিদের অনেক সময় দেখা যায় ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পরে মুখ কিছুটা রুক্ষ লাগে দেখতে। তাই শুধু ফেসওয়াশ ব্যবহার করলেই হবে না সেই সাথে একটি ভালো মানে ডিপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button