আসুন জেনে নেই মিল্ক শেক এর উপকারিতা

মিল্ক শেক এর উপকারিতা

মিল্ক শেক বা দুধের শেক। নাম শুনলেই মনে হবে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। স্বাদে অতি লোভনীয় কিছু না হলেও পুষ্টিগুন অত্যন্ত বেশি। আজকাল বিভিন্ন ধরনের স্ট্রিড ফুডের যুগে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাওয়া যেখানে প্রায় অসম্ভব সেখানে হাতের নাগালে থাকা মিল্ক শেক দিতে পারবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুষ্টি উপাদান। 

মিল্ক শেক নাম শুনলেই অনেকে মনে করতে পারেন, দুধের স্বাদ আর কি এমন! শুধু দুধ না, মিল্ক শেক আপনি নানা স্বাদের পাবেন, রয়েছে নানা ফ্লেভার। স্ট্রবেরি, চকলেট, ভ্যানিলা সহ নানা স্বাদের মিল্ক শেক আপনি নিজেই তৈরি করতে পারবেন ঘরে বসেই। 

মিল্ক শেক কি, এর উপকারীতাসহ কি ক্ষতি হতে পারে শরীরের এসব কিছু নিয়েই সাজানো আজকের আয়োজন। তাহলে চলুন আর দেরি না করে জেনে নেই এই দারুন স্বাদের মিল্ক শেক সম্পর্কে। 

মিল্ক শেক কি

প্রথমেই জেনে নেই মিল্ক শেক কি। আপনি যদি ডায়েট করে থাকেন তবে নিশ্চয়ই জানেন মিল্ক শেক কি। তবুও বলে রাখি এটি মূলত একটি সুস্বাদু পুষ্টি গুন সমৃদ্ধ পানীয় যা দুধের সঙ্গে বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়ে থাকে। 

সাধারণত মিল্ক বলতে বিভিন্ন ফলের সাথে সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি পানীয়কে বুঝায়। ফলের মিল্ক শেক মূলত সহজলভ্য এবং সুস্বাদু। আজকাল বাজারে বিভিন্ন দোকানে তৈরি মিল্ক শেক কিনতে পাওয়া যায়। তা থেকে আপনি আপনার পছন্দ মতো ফ্লেভারটি পছন্দ করে নিতে পারেন। 

কিটো গ্রীন কফি কি এবং এর উপকারীতা

মিল্ক শেকের পুষ্টি গুন

যেহেতু দুধ থেকে তৈরি করা হয় মিল্ক শেক তাই এর পুষ্টি গুন বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়াও এতে বিভিন্ন ফলের উপাদান সহ আরও নানা পুষ্টি সমৃদ্ধ উপাদান ব্যবহার করা হয়, ফলে পুষ্টি গুন বেড়ে যায় বহু গুনে। 

মিল্ক শেকে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালরি যা কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও রয়েছে শর্করা, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, সুগার,  ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিনসহ কিছু পরিমানে ফ্যাট, কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম। 

তবে আপনি যে যে উপাদান মিল্ক শেকে ব্যবহার করবেন তার উপরও এর পুষ্টি গুন নির্ভর করবে। তাই অন্যান্য পুষ্টি সমৃদ্ধ উপাদান ব্যবহার করলে এর পুষ্টি গুন আরও বেড়ে যাবে।

মিল্ক শেক এর উপকারিতা

এবার আসুন জেনে নেই মিল্ক শেকের উপকারিতা। মিল্ক শেক শরীরের জন্য কতটা উপকারী তা নিশ্চয়ই এর পুষ্টি গুন দেখেই বুঝতে পারছেন। 

যেহেতু দুধকে একটি আদর্শ সুষম খাবার বলা হয়, তাই মিল্ক শেকও একটি আদর্শ খাবার বলে সমাদৃত হয়। স্বাস্থ্য ভালো রাখা ও বৃদ্ধি করার জন্য মিল্ক শেকের জুড়ি মেলা ভার। তাই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও মিল্ক শেক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে।

মিল্ক শেকের উপকারিতাগুলো বিস্তারিত ভাবে নিচে উপস্থাপন করা হলো যাতে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারেন মিল্ক শেক আপনার শরীরের জন্য কতটা উপকারী।

. হাড় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে

দুধে সবথেকে বেশি পুষ্টি গুন যেটা থাকে তা হলো ক্যালসিয়াম। আর ক্যালসিয়াম যে হাড় গঠনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে হাড়ের গঠন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনার শিশুর হাড় গঠনে মিল্ক শেক খাওয়াতে পারেন নিয়মিত। এতে হাড় মজবুত হওয়া সহ দাঁতের গঠনেও বিশেষ ভূমিকা পালন করবে এই সুস্বাদু পানীয়। 

. প্রয়োজনীয় ভিটামিনের যোগান দেয়

মিল্ক শেক যেহেতু বিভিন্ন ফলের উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় তাই এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রোটিনের যোগানও পাওয়া যাবে মিল্ক শেকে। শরীরের বিভিন্ন ভিটামিনের চাহিদা পূরন হতে পারে নিয়মিত মিল্ক শেক পানের মাধ্যমে। 

. শরীরের ডিহাইড্রেশন দূর করতে সহায়তা করে

শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরার অন্যতম মূল কারন শরীরে যথেষ্ট পরিমানে পানির ঘাটতি অর্থাৎ ডিহাইড্রেশন। আপনি যদি নিয়মিত মিল্ক শেক পান করেন তাহলে এই প্রয়োজনীয় পানির চাহিদাও পূরন করতে পারে এই মিল্ক শেক। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে মিল্ক শেকের ভুমিকা অপরিসীম। 

. শারীরিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে

আপনি যদি নিয়মিত মিল্ক শেক পান করেন তবে আপনি পরিমিত পরিমানে প্রোটিন, শর্করা পাবেন যা আপনার শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। সার্বিক ভাবে শরীরের গঠনেও মিল্ক শেকের গুরুত্ব রয়েছে। সেই সাথে আপনি যথেষ্ট পরিমানে শর্করা পাবেন যা শরীরের শক্তি বা এনার্জি ধরে রাখতেও সহায়তা করবে। ফলে আপনি সহজেই ক্লান্ত হবেন না। বরং কাজ করার উদ্যম ফিরে পাবেন। 

. মস্তিষ্কের কার্যকারীতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে

দুধ শরীরের সার্বিক পুষ্টির যোগান দেয়। ফলে এর সাথে যখন আপনি বিভিন্ন ফলের উপাদান একসাথে মিশিয়ে পান করবেন, বলার অপেক্ষা রাখে না এটি আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কতটা ভুমিকা রাখতে পারে। যাই হোক, আপনি যদি নিয়মিত মিল্ক শেক পান করেন তবে এতে বিদ্যমান ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের গঠনে ও স্মৃতি শক্তি ধরে রাখতেও সহায়তা করবে।

. ওজন কমাতে সাহায্য করবে

ফলের মিল্ক শেক আপনার শরীরের ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোনো ধরনের উচ্চ ক্যালরিযুক্ত উপাদান আপনি পান করছেন কিনা। এক্ষেত্রে ফলের উপাদানের মধ্যে কম ক্যালরিযুক্ত উপাদান ও উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ উপাদান মিল্ক শেকে ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার শরীর যথেষ্ট পুষ্টি উপাদান পাবে এবং ওজন হ্রাস করতেও সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। 

. হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে সাহায্য করে

আপনি যদি মিল্ক শেকে স্ট্রবেরি, কমলা, পেঁপে, ব্লুবেরি ইত্যাদি ফল ব্যবহার করেন তবে তা আপনার হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও খুব ভালো ভুমিকা রাখতে পারে। কারন কম ফ্যাট যুক্ত খাবার সব সময়ই হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে সাহায্য করে। 

. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

দুধের মধ্যে যেহেতু সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সুষম পরিমানে বিদ্যমান থাকে তাই এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। এক্ষেত্রে আপনি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলের উপাদান যোগ করতে পারেন আপনার নিয়মিত মিল্ক শেকে। যেহেতু ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভুমিকা রাখে, তাই ভিটামিন সি যুক্ত মিল্ক শেকও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। 

মিল্ক শেকের অপকারিতা

পৃথিবীতে সবকিছুরই উপকার এবং অপকার দুটিই বিদ্যমান থাকে। কখনও একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনা করা যায় না। ঠিক তেমনি, মিল্ক শেক যেমন আমাদের শরীরের এতো উপকার সাধন করে, এর অতিরিক্ত পানের ফলেও কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

আপনি যদি অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত মিল্ক শেক নিয়মিত পান করেন, তবে এটি আপনার রক্তকে দূষিত করে তুলতে পারে। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশংকা থেকে যায়। তাই সব সময় চেষ্টা করবেন কোনো রকম কৃত্রিম উপাদান যেমন হুইপড ক্রিম, আইসক্রিমযুক্ত মিল্ক শেক এড়িয়ে চলতে। এছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতি করতে পারে, কারন এতে সুগার বিদ্যমান থাকে। তাই এই রোগীদের মিল্ক শেক এড়িয়ে চলাই ভালো।

শেষ কথা

মিল্ক শেক গ্রহনের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বাড়াতে পারবেন ঠিক তেমনি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবেও মিল্ক শেক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। মিল্ক শেক যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তেমনি এর অতিরিক্ত পান আমাদের কিছু শারীরিক ক্ষতির কারন হতে পারে। তাই মিল্ক শেকের ক্ষেত্রে অবশ্যই ফলের মিল্ক শেক পানের চেষ্টা করুন যাতে করে আপনি সুন্দর এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করতে পারেন। আর এর ক্ষতি এড়াতে অবশ্যই কৃত্রিম উপাদান মিশ্রিত মিল্ক শেক এড়িয়ে চলুন সর্বদা। 

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button