মহানগর ওয়েব সিরিজ রিভিউ |একটি ক্রাইম থ্রিলার

চলুন জেনে নেয়া যাক,মহানগর ওয়েব সিরিজ রিভিউ সম্পর্কে:

‘মহানগর’ ওয়েব সিরিজটি তৈরি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পটভুমিকায়। ওনেক দেশের মতো এখানেও ঘটে চলে যে অহরহ দুর্নীতি তার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে  ওয়েব সিরিজটিতে। ঘটনা শুরু হয় এক রাতের অভিজাত বৃত্তের আয়োজিত পার্টি থেকে। স্বনামধন্য আলমগির চৌধুরী যার ছেলে আফনান চৌধুরী তার বাবা শিল্পপতি-রাজনীতিবিদ যে কারনে তিনি ক্ষমতার দর্পে তার কাছে তাস খেলায় হেরে যাওয়াতে তার মুড খারাপ হয়ে যায়। পরবর্তীতে দেখা যায়, পার্টি থেকে নিজের বান্ধবীকে  তুচ্ছ করে সে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। বেসামাল ভাবে গাড়ি চালানর ফলে আফনানের গাড়ির নিচে চাপা পড়ে সাধারন একজন মানুষ। আফনানকে পুলিশ থানায়  নিয়ে যাওয়া হলে হইচই পড়ে যায় চারদিকে। যে-কোনও মূল্যে ছেলেকে ছাড়াতে আলমগির চৌধুরী থানায় প্রতিনিধি পাঠায়। বড় অঙ্কের টাকা ঘুষও নেন থানার ওসি। চেষ্টা করেন আফনানকে বাঁচানোর। কিন্তু  প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলে হিসেবেও কোনও ছাড় দিতে রাজি হয়নি থানার এসি শাহানা স। সত্যের সন্ধানে বেরিয়ে পরে সাব-ইন্সপেক্টর মলয়ও। থানায় নাটক আরও জমজমাট হয়  সারা রাত । তার প্রভাবশালী বাবা কি পারবে ঘুষের টাকার জোরে আফনানকে থানা থেকে ছাড়াতে? চমক এখানেই দেখা যায়, শেষ পর্যন্ত ছাডা পায়না পুলিশের হাত থেকে আফনান। আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ওসি হারুনও গ্রেফতার হয় ঘুষ নেওয়ার কারনে এবং তারই কারনে আফনানের অন্য অপরাধের প্রমাণ বেরিয়ে আসে যা ছিল অ্যাক্সিডেন্টের থেকেও বড় অন্যায়। যেটি সে পার্টিতে করে এসেছিল। 

পরিচালক আটটি পর্বের এই ওয়েব সিরিজ পর্বগুলির নাম দিয়েছেন— ‘গোড়ায়গলদ’, অন্ধের যষ্ঠি‘, ‘গলার কাঁটা’, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘শাপে বর’, ‘ঈশানের মেঘ’, ‘কিস্তিমাত’ এবং ‘অমাবস্যার চাঁদ। 

 

মহানগর ওয়েব সিরিজ

 

একটি থ্রিলার নির্মাণ উদ্দেশে পরিচালক এই সকল সব সাংকেতিক উপ-শিরোনাম দিয়েছেন। সমাজ-বাস্তবতা সকলের কাছে তুলে ধরতে ‘মহানগর’ ওয়েব সিরিজ যতটা সফল, শিহরণময় ঘটনার ক্ষেত্রে দর্শকের কাছে ততটা সফল নয়। যেখানে মাঝেমাঝেই অকারণে জলঘোলা করা হয়েছে দৃশ্যপট। জয়নালকে তাড়া করে ধরা এবং ছেড়ে দেওয়া  কিন্তু অহেতুক দৃশ্য বলেই মনে হয়। অথবা আবিরের সাথে তার বান্ধবীর দেখানো দৃশ্য , তা না থাকলেও মূল গল্পের কিছু পরিবর্তন হতো না। সুঅভিনেতা খায়রুল বাশার আবির চরিত্রে অকারণে ব্যবহৃত হয়েছেন। এই সকল বিক্ষিপ্ত ঘটনা গুলো এতটা জায়গা নিয়েছে যে, শেষে অধিক-গুরুতর অপরাধ  আফনান চৌধুরীর বিষয়টি  অতি মৃদু লাগে। বরং মাস্টার স্ট্রোকের জায়গা ছিল এটাই। আশফাক নিপুণ পরিচালনায় যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখালেও আদৌ চিত্রনাট্য ‘নিপুণ’ নয়। সব মানুষেরই চাওয়া এটাই, অন্যায়কারী সাজা পাক। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এখানে ‘নীরবে নিভৃতে বিচারের বাণী কাঁদে’। কী হবে এখানে? এই স্বাভাবিক উকণ্ঠাকে মানুষের কাছে মোটামুটি করে জাগিয়ে রেখেই ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’  সাড়া ফেলেছে দর্শক মহলে। টানা একটি রাতের ঘটনা  ক্যামেরার চোখে  তুলে ধরা সহজগম্য নয়। উন্নত প্রোডাকশন এবং অভিনয় নিঃসন্দেহে এই সিরিজের বিশেষ সম্পদ। নতুন করে বেশি কিছুই বলার নেই মোশারফ করিম সম্পর্কে। তাঁর অভিনয়ে ওসি হারুনকে জীবন্ত এবং গোটা সিরিজের প্রধান আকর্ষণ করে তুলেছেন। তাঁর মাঝে মাঝেই ‘দুইডা কথা মনে রাখবা’-জাতীয় সংলাপের আপাত নিশ্চিত সবার মুখে মুখে ঘুরবে। মোস্তাফিজুর নুর ইমরান সাব-ইন্সপেক্টর মলয়ের চরিত্রে তার নিজস্বতায় ভরপুর, যার কারণেই মোশারফ করিমের পাশে থেকেও হারিয়ে যাননি তিনি। শ্যামল মাওলা মানিয়েছে ক্ষমতাদর্পী আফনানের ভূমিকায় এবং জাকিয়া বারী মমকে দাপুটে এসি শাহানার চমকার দাপুটে ভূমিকায়। কিন্তু নিখুঁত ও ধারালো অভিনয়ে নাসিরউদ্দিন খান স্বল্প উপস্থিতিতেই দর্শকদের মন মাতিয়েছেন। কয়েদ খাটা লোকটির ভূমিকায় ও মাঝে মাঝেই নাসিরের ফিচেল হাসি ভুলবার মতো নয়। ঘুষখোর দারোগা হারুনকে ঘিরে একটি রহস্য তৈরি করা হয়েছে প্রথম সিজনের শেষ পর্বের শেষ দৃশ্যে । সে কি আসলে ঘুষ নিয়েছিল কৌশল হিসেবে? ভিতরে ভিতরে কি সে স? ওসি হারুন তার শেষ সংলাপে চেয়েছে বলতে যে, সিস্টেমের ভিতরে এত ভূত… নিজেদেরও মাঝে মাঝে ভূত হতে হয় তাদের সঙ্গে লড়তে গেলে। 

এখন অপেক্ষার পালা, হারুন-রূপী মোশারফ করিমের চরিত্রটি দ্বিতীয় সিজনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

 

কে এই নায়ক শরিফুল রাজ?

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button