ব্রেস্ট টিউমার হলে কি করা উচিত | লক্ষণ ও চিকিৎসা

ব্রেস্ট টিউমারের আসল কারন

ব্রেস্ট টিউমার হলে কি করা উচিত 

ব্রেস্ট টিউমার বা ক্যান্সার শুধু বাংলাদেশ না সারাবিশ্বের নারীদের একটি আতঙ্কের কারন। ব্রেস্ট টিউমার সঠিক সময় সন্তাক্ত করতে না পারলে সেটি ক্যান্সারে রূপ নিয়ে প্রাণ নিয়ে বিরবনায় ফেলে দেয় আমাদের। তাই ব্রেস্ট টিউমার হলে কি করা উচিত তা সম্পর্কে আমাদের সদা সর্তক থাকতে হবে।

সারা বিশ্বে ২ ১ মিলিয়ন মহিলার মধ্যে প্রতি বছর একটি স্তন ক্যান্সার নির্ণয় ঘটে। একটি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী ৬ লাখ ২৭ হাজার মহিলা স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের কারণে মারা গেছেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে, এবং আজকাল, এটি অল্পবয়সী মহিলাদের মধ্যেও দেখা যায়। উন্নয়নশীল এবং উন্নত উভয় দেশেই স্তন ক্যান্সারের হার বাড়ছে। স্তন ক্যান্সারের প্রথম ধাপ হলো ব্রেস্ট টিউমার। তাই আগে আমাদের ব্রেস্ট টিউমার সম্পর্কে জানতে হবে। এই আর্টিকেলে আমরা ব্রেস্ট টিউমার হলে কি করা উচিত এবং এইটি চিহ্নত করার উপায় জানবো।

ব্রেস্ট টিউমার আসলে কি?

আমাদের দেহে ট্রিলিয়ন কোষ রয়েছে, কোটি কোটি নয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে ৩০ ট্রিলিয়ন কোষ থাকে। জন্মের সময় এই সংখ্যা চার শতাংশের এক শতাংশ। অভ্যন্তরীণভাবে, কোষের জন্ম, মৃত্যু এবং পুনর্জন্ম হয়। কিছু কোষ আকারে বৃদ্ধি পায়, কিছু কোষ সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়।

তবুও, এমন নির্দেশ বা নিয়ম রয়েছে যা একটি কোষের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কোন কোষটি মারা যাবে এবং কোনটি কতগুলি নতুন কোষের জন্ম দিতে সক্ষম হবে, কোষের আকার কী ইত্যাদি। এই নিয়মগুলো ডিএনএতে সংরক্ষিত থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, যদি ডিএনএতে সেট করা এই নির্দেশনা পরিবর্তন করা হয়, তবে কোষগুলি অস্বাভাবিকভাবে জন্ম দিতে শুরু করে, পুরানো কোষগুলি মারা যায় না এবং ঘুরে বেড়ায়, বা সদ্য জন্ম নেওয়া কোষগুলি কোনও কাজ ছাড়াই ঘুরে বেড়ায়।

কোষের নির্দেশনা পরিবর্তন হয় কারণ তারা জানে না কোথায় থামতে হবে, কী করতে হবে। ডিএনএর পরিবর্তনের ফলে শরীরে প্রচুর অস্বাভাবিক কোষ তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক কোষের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায় এবং পুরাতন কোষ অপসারণের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে পলির মতো জমে থাকে। যখন এই অতিরিক্ত এবং অস্বাভাবিক কোষগুলি শরীরের কোথাও জমা হয় এবং পিণ্ড বা পিণ্ড বা ডিস্ক হিসাবে দেখা দেয়, তখন সেই অবস্থাটিকে টিউমার বলে। এই অবস্থা ব্রেস্টে হলে তাকে ব্রেস্ট ক্যান্সার বলে।

ব্রেস্টে কয় ধরনের টিউমার হয়?

শরীরে অন্যান্য অজ্ঞের মতো ব্রেস্ট টিউমারও বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। ব্রেস্ট টিউমার সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। তা হলোঃ 

. বিনাইন টিউমার : আমরা সাধারণত চিকিৎসা পরিভাষায় সৌম্য টিউমারকে টিউমার বলে থাকি। ক্যান্সার নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি এমন কিছু যা আপনার যে কোনও বয়সে ঘটতে পারে। মানে সাত থেকে সত্তর বছরের মধ্যে যেকোনো বয়সেই আপনি এটি দেখতে পাবেন।

. ম্যালিগন্যান্ট টিউমার: এই সমস্যা হল এটি মূলত এক ধরনের স্তন ক্যান্সার যা সাধারণত ৪০৫০ বছর বয়সের পরে হয়। তবে আমাদের দেশে ত্রিশ বছর বয়সেও খুব কম নারীই এই রোগে আক্রান্ত হন।

ব্রেস্ট টিউমারের আসল কারনঃ 

স্তনের টিউমারের কারণ কী তা আমরা এখনও জানি না, তবে এমন অনেক কারণ রয়েছে যা স্তন টিউমারের বিকাশে অবদান রাখতে পারে। আসুন স্তন টিউমারের লক্ষণগুলির ফলে কী হতে পারে তা ঘনিষ্ঠভাবে দেখে নেওয়া যাক।

বংশানুক্রমে:

আপনি যদি এই রোগে আক্রান্ত কেউ আপনার বংশে থেকে থাকে তবে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ভাল। বিশেষ করে যদি আপনার পরিবারের অন্য সদস্যরা পূর্বে থাকে যেমন আপনার মা এবং খালা।

অতিরিক্ত ওজন:

গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ওজন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এটি বিশেষভাবে সত্য একটি সন্তানের জন্মের পরে যখন মায়ের শরীরের মেদ বেড়ে যায়।

ঔষধের অপপ্রয়োগ:

 কিছু কিছু সময় ওষুধ সেবনের এর অপপ্রয়োগের কারনে স্তন এ টিউমার হয়ে থাকে। তাই ওষুধ সেবনের সময়ও সর্তকতা অবলোবোন করতে হবে। যাতে করে একটি অসুখ সারাতে গিয়ে, অন্যকোনো অসুখ যেন দেহে বাসা না বাধে।

ধূমপাওবা মদ্যনেঃ

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে যে যে মহিলারা ধূমপান করেন বা অ্যালকোহল পান করেন তাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় 40 শতাংশ বেশি থাকে যারা ধূমপান করেন না বা অ্যালকোহল পান করেন না। তাই এমন তামাকজাত দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন এবং নিজ স্বাস্থ্য সচেতন হোন।

 

ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ ও চিকিৎসা

 

 

ব্রেস্ট টিউমার চিনার সহজ উপায়ঃ

 

ব্রেস্ট টিউমার যদি আমরা খুব জলদি ধরতে পারি তাহলে ব্রেস্ট টিউমার হলে কি করা উচিত তা আমরা অতিসহজেই বুঝতে পারবো এবং পদক্ষেপ নিয়ে আমারা আমাদের জীবন ঝুকি থেকে বাচাতে পারবো অতিসহজেই। টিউমার চিনার উপারগুলো হলোঃ

  • স্তনের টিউমারের সবচেয়ে বড় লক্ষণ হল স্তনে শক্ত পিণ্ডের মতো অনুভব করা। অর্থাৎ রোগী স্তনে অস্বাভাবিক দৃঢ়তা অনুভব করবেন।
  • স্তনের পিণ্ডের সাথে সম্পর্কিত অস্বাভাবিকতার লক্ষণ, যেমন কালো হয়ে যাওয়া, শক্ত হয়ে যাওয়া বা ভিতরে চলে যাওয়া।
  • স্তনের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ত্বক চুলকায় বা স্তনের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় রঙ পরিবর্তন করে।
  • এটি ছাড়াও, বিভিন্ন রোগী বিভিন্ন উপসর্গ অনুভব করতে পারে, যেমন স্তনে ব্যথা, স্তনের বোঁটা বা অত্যধিক চুলকানি।

ব্রেস্ট টিউমার হলে কি করা উচিত?

 

ব্রেস্ট টিউমার যদি খুব দূরত্ব ধরতে পারেন তবে ঘাবড়াবেন না। শান্ত হয়ে বসুন এবং টিউমারের সঠিক চিকিৎসা খোজ করুন এবং গ্রহন করুন। এখন পর্যন্ত টিউমারের দুইটি ধরনের চিকিৎসা প্রচলন আছে বাংলাদেশে। তা হলোঃ

অপারেশন

একটি স্তন ক্যান্সার অপারেশনের ক্যান্সারের ধরন এবং অপারেশনের ধরণের উপর নির্ভর করে কম বা বেশি খরচ হতে পারে। যেহেতু স্তন ক্যান্সারের বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে, তাই অবস্থার বিকাশের সাথে সাথে খরচ পরিবর্তিত হবে।

 এর পাশাপাশি, আপনি যদি বাংলাদেশ ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের মতো সরকারি হাসপাতালে স্তন ক্যান্সারের সার্জারি করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে আপনার খরচ কম হবে, যেখানে আপনি যদি এটি একটি বেসরকারি হাসপাতালে করেন তবে আপনার খরচ বেশি হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে যদি টিউমার শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তাহলে আপনার ছোট অপারেশনই তা ঠিক করে দেবে। এক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বাংলাদেশের বেশ প্রচলন আছে তবে স্তনের টিউমারের চিকিৎসার জন্য হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই, বাংলাদেশ ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের ডাক্তার পারভিন চৌধুরীর মতে। স্তনের টিউমারের প্রথম থেকেই সঠিক চিকিৎসা না হলে ভবিষ্যতে স্তন ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে। তাই স্তনে টিউমারের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

স্তন টিউমারের জন্য তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করেননি একমাত্র কারণ, কারণ তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, হোমিওপ্যাথি প্রাথমিকভাবে রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমরা রোগীর চিকিৎসা করি, রোগ নয়।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা যে খারাপ তা নয়, বরং তারা রোগীর অবস্থা ভালোভাবে না বুঝে সবার জন্য একই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করে, ফলে ফলাফল কখনো কখনো বিপরীত হয়

পরিশেষে

ব্রেস্ট টিউমার আমাদের দেশের নারীদের মধ্যে একটি বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সময়ে। তাই ব্রেস্ট টিউমারের কারন লক্ষন এবং ব্রেস্ট টিউমার হলে কি করা উচিত এগুলো আমাদের এবং আমাদের পরিবার ও আশেপাশের নারীদের এই সম্পর্কে সচেতন করতে এবং জানাতে হবে। যাতে করে তারা কোনো রকম স্বাস্থ ঝুকিতে না পরে। পরলেও দূরত্ব ব্যবস্থা নিতে পারেন।।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button