বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি | সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু হচ্ছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি 

মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক দুদক কমিশনার, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হয়েছেন। যদি এই মনোনয়নপত্র বৈধ হয় ও তা প্রত্যাহার না করা হয়, তবে তিনিই হচ্ছে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি।

১২ই ফেব্রুয়ারি রোজ রোববার নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। চুপ্পুর পক্ষ হয়ে, ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক,  মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ সময় তার সঙ্গে প্রইনিধি দলে ছিলেন চিফ হুইপ লিটন চৌধুরী,  জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ অন্যরা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহীবাহী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ গণপ্রজাতন্ত্র্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন প্রদান করেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি, আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সংসদীয় দল তার ওপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি যে দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন। তার আলোকে তিনি এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন।”মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, যিনি পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি পাবনা জেলায়, ১৯৪৯ সালে  জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইতিপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কমিশনার ও জেলা সিনিয়র দায়রা জজ এবং  হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে্‌ ১৯৭১ সালে  আহ্বায়ক এর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চুপ্পু কারাভোগ করেন দীর্ঘ তিন বছর ।

তিনি বিসিএস বিচার বিভাগে যোগদান করেন ১৯৮২ সালে।পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৫ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশেনের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি আইন মন্ত্রণালয় থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায়  কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ সালে সাধারণ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতাকর্মীদের সংগঠিত হত্যা, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড, এবং লুণ্ঠন অনুসন্ধানে দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কর্তব্যরত করেছেন।তিনি ছাত্র জীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৭৩ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তার রয়েছে এক পুত্র সন্তান। তার স্ত্রী প্রফেসর ড. রেবেকা সুলতানা  ছিলেন সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব।প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রেখে, গত ২৫ জানুয়ারি এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। আউয়াল  ‘নির্বাচনি কর্তা’ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন,হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তফসিল মোতাবেক, ১৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই হবে , ১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়।

জাতীয় সংসদ ভবনে, দুপুর ২টা-বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে আগামী ৫ বছর তাঁর পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন নির্বাচিত ব্যক্তি। মো. আবদুল হামিদ, বর্তমান রাষ্ট্রপতি  ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল কার্যভার গ্রহণ করেন। সেই অনুযায়ী আগামী ২৩ এপ্রিল তাঁর দায়িত্বের ৫ বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ।

এদিকে বিধান রয়েছে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে পদটি শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিন-৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার। সংবিধানের এসব বিধানের আলোকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হয়েছে ২৪ জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ করতে হবে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।এ নির্বাচনের সর্বশেষ তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি।  ৫ ফেব্রুয়ারি  ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়, ৭ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই ছিল। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় ছিল ১০ ফেব্রুয়ারি ও ভোটগ্রহণের সময় রাখা হয়েছি ১৮ ফেব্রুয়ারি।

সে সময়  নির্বাচন কমিশন পুরো কার্যক্রম ২২ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সে সময় বর্তমান রাষ্ট্রপতি একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন প্রস্তাবক ও একজন সমর্থক হতে হয়। আর তারাই এই নির্বাচনের ভোটার হয়ে থাকেন। বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হচ্ছে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ট দল। এজন্য এই দল থেকে যে প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে, তিনিই নির্বাচিত হচ্ছেন বলে ধরে নেওয়া যায়।

নতুন মেয়াদের নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রস্তাবক হয়েছেন ওবায়দুল কাদের আর সমর্থক হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসারে একক প্রার্থী থাকলে এবং তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় (১৪ ফেব্রুয়ারি) শেষে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত হবেন।মো. আবদুল হামিদ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন ‘প্রাক্তন’ রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সিঙ্গাপুরে চিকিসাধীন থাকাকালে ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ থেকে । সে বছর ২০ই মার্চ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মৃত্যুবরণ করায় মো. আবদুল হামিদ সেদিন থেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর মো. আবদুল হামিদ ২০১৮  সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ওই বছর ২৪ এপ্রিল ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ায় তিনি আর এই পদে প্রার্থী হতে পারবেন নাপরবর্তীতে ২২ এপ্রিল তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button