বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান কি এবং কেন ?

বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান কি এবং কেন ?

জয় বাংলা’কে সরকার জাতীয় স্লোগান হিসেবে বাধ্যতামূলক করেছে হাইকোর্টের
আদেশ অনুসরণ করে ৷ যদি এটা না মানলে কোনো শাস্তির বিধান থাকবে কিনা
সেক্ষেত্রে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব কিছু জানাননি৷

এই সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপন আকারে রবিবারের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের জারি করা হবে৷ এ
ব্যাপারে তখন বিস্তারিত জানা যাবে৷ আপাতত সরকারের এ ব্যাপারে সংসদে কোনো
আইন পাশের ইচ্ছা নেই৷ মন্ত্রিপরিষদ এই সিদ্ধান্ত ২০২০ সালের ২২ মার্চ হাইকোর্ট যে
আদেশ দিয়েছে, তার আলোকেই নেয়া হয়েছে৷

অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম মৎস প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জানান, ‘‘জয় বাংলা”
স্লোগান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ৷ প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার
পর এর বিস্তারিত জানা যাবে৷ প্রজ্ঞাপন হলে বোঝা যাবে শাস্তির বিধান থাকবে কি
থাকবে না সেটা ৷
রবিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জয় বাংলাকে জাতীয়
স্লোগান হিসেবে বাধ্যতামূলক করার পর এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ৷
তিনি বলেন, ‘‘হাইকোর্টের ২০২০ সালে যে রায়, জয় বাংলাকে সেখানে বলা হয়েছে
যে জাতীয় স্লোগান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে
সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে৷

তিনি বলেন, ‘‘মন্ত্রিপরিষদে আলোচনার পর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যা প্রচারের
ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান যেসব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক
‘জয় বাংলা’ স্লোগান ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলোও মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্পষ্ট করেছেন৷ তিনি
জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় বা সরকারি অনুষ্ঠানের শেষে সাংবিধানিক পদধারী সকল ব্যক্তি,
রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলে জয় বাংলা বলবেন৷

এছাড়া যে কোনো ধরনের সভা-সেমিনার শেষে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসহ
সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জয় বাংলা বলতে হবে৷ ‘জয় বাংলা স্লোগান দিতে হবে
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাসেম্বলিতে অংশগ্রহণকারীদের৷
আর যে কোনো অ্যাসেম্বলি, সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তিই যে অনুষ্ঠানে থাকবেন, তিনি
‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেবেন৷ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
মন্ত্রিপরিষদের সভায় ৷

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যা বলছে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের দলের মধ্যে
‘‘জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি৷
আমাদের প্রতিক্রিয়া আমরা আলোচনা করে পরে জনাবো৷
তবে সাংগঠনিক সম্পাদক বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘‘আমার
ব্যক্তিগত মতামত হলো, এখন দেশে চরম সংকট চলছে, সে সবের কোনো সমাধান
না করে সরকার এখন জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে একটি নতুন ইস্যু তৈরি করছে৷
মানবাধিকার লঙ্ঘন, দ্রব্য মুল্যের ঊর্ধ্বগতিতে, ভোটাধিকার না থাকা মানুষ এখন অতিষ্ঠ৷ এসব সকল নিয়ে মন্ত্রিসভায় কথা হয় না৷ এইসকল সমস্যা থেকে মানুষের আকর্ষণ সরানোর জন্য সরকার এই সকল কাজ করছে৷
তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এখন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ আর জয় বাংলা
বিতর্কের সময় নয়৷ আমরা এই সরকারের ফাঁদে পা দিতে চাই না৷ দেশের মানুষ
মনে করে যেটা সেটাই হবে৷

মন্ত্রী শ. ম রেজাউল করিম উত্তরে বলেছেন , ‘‘এটি শুধুমাত্র হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন
করা হয়েছে৷ আর নতুন কিছু নয় এটা৷ মুক্তিযুদ্ধে জয় বাংলা মুক্তিকামী সকলের
স্লোগান ছিল ৷ এটা দলের বা ব্যক্তির কোনো স্লোগান ছিল না৷ মানুষকে সেই
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনপ্রাণিত করাই এর লক্ষ্য৷ কোনো দলীয় বিষয় নেই এখানে৷
জয় বাংলায় যারা বিশ্বাস করে না, তারা পাকিস্তান জিন্দবাদের অনুসারী৷ মুক্তিযুদ্ধের
তারা চেতনায় বিশ্বাস করে না৷
তিনি আরো বলেন, ‘‘১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে দীর্ঘদিন
টেলিভিশন, রেডিও ও পত্রিকায় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল জয় বাংলা৷ লেখা যেতো না
বইয়ে৷ বঙ্গবন্ধু শব্দটিও বলা যেতো না, লেখা যেতো না লেখা হতো শেখ মুজিব৷

রিটকারী আইনজীবীর কথা

২০১৭ সালে হাইকোর্টে জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করার জন্য রিট করেছিলেন
আইনজীবী বশির আহমেদ৷ তিনি বলেন, ‘‘মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে কোনো শাস্তির কথা
বলা না হলেও যারা এটা লঙ্ঘন করবেন তারা আদালত অবমাননা করবেন৷ তাদের
বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা যাবে৷ কারণ, সিদ্ধান্তটি আদালতের৷
সরকার সংসদে যদি আইন পাস করতো তাহলে কেউ কেউ বলতো তারা দলীয় স্বার্থে
করেছে৷ কিন্তু এটা করা হয়েছে আদালতের নির্দেশে ৷ জয় বাংলা স্লোগান কোনো
দলের নয়, এটা সকলের৷
তার কথা, জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ৷ মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুকে বরণ
করেছেন জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে, শহীদ হয়েছেন৷ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু
বলেছেন,জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি রক্ষিত রয়েছে জয়
বাংলা স্লোগানের মধ্যে, ৷ তাই আমি মনে করি এই স্লোগান আমাদের জাতীয় মন্ত্র৷
এটা সব সময়ের৷ আর এটা এখন সবার মাঝে নতুন করে আবার ছড়িয়ে দিতে
হবে৷
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘দলীয় স্লোগান বলার কোনো সুযোগ নেই জয়
বাংলাকে৷ চিরন্তন ও চিরায়ত স্লোগান এটা বাংলাদেশের ৷ ১৬৫ দেশের রেফারেন্স
দিয়েছি আমি আমার রিট আবেদনে ৷ উল্লেখ করেছি ১৭৫টি দেশের সংবিধানের
স্ট্যাটাস ৷ জাতীয় স্লোগান সেখানেও আছে৷ আর এটা সবার জন্য জয় বাংলা
আমাদের জাতীয় স্লোগান৷ ৷

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button