ক্রিকেটে কোন নিয়ম অনুযায়ী আম্পায়ার ওয়াইড না দিতে পারেন

 ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৩ এর বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের পুনে স্টেডিয়ামে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৮ তম শতরান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার ঝুলিতে নিয়েছেন ভিরাট কোহলি। 

তবে, এতসবের মধ্যে এই ম্যাচে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে বাংলাদেশ দলের নাসুম আহমেদের করা একটি বল। খালিচোখে বলটি ওয়াইড মনে হলেও ব্রিটিশ আম্পায়ার রিচার্ড ক্যাটেলবোরো ওয়াইড দেন নি। নাসুমের করা এই বলটি ইচ্ছেকৃত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে খেলা শেষে প্রেস কনফারেন্সে বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, এ নিয়ে কোনো কথাই হয়নি দলের মধ্যে এবং বলটি ইচ্ছেকৃত ছিল না। 

এর আগের ওভারে হাসান মাহমুদ কোহলি কে মাথার ওপর থেকে বাউন্সারে একটি ওয়াইড বল দিলে কোহলির অভিব্যক্তি হয় দেখার মত। 

কোহলির যখন জয়ের জন্য ২৭ রান দরকার, ভারতের জয়ের জন্য ২৮ রান দরকার। এমন সময় থেকেই কোহলির অপরপ্রান্তে থাকা কে.এল রাহুল রান নেয়া বন্ধ করে দেন, যাতে কোহলির সেঞ্চুরি হয়। তবে, রাহুল জানান, কোহলি তাকে বলেছিলেন নিজের জন্য খেলা বাজে দেখায়। যদিও রাহুল কোহলি কে বলেন আমরা সহজেই জিতব, তাই চিন্তার কিছু নেই। 

এটি ছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোহলির তৃতীয় শতরান। এর পূর্বে ২ টি ছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং ২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে। 

তবে, কোহলির শতরান ছাপিয়ে নাসুমের করা বলটিই যেন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। টুইটারে পিটার ডেলা পেনা নামে এক ক্রিকেট অনুরাগী লিখেছেন, বাংলাদেশের বোলার হলে তিনি ৫ টা ওয়াইড বল ছুড়তেন। এদিকে কোহলিকেও প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন নেটিজেনরা। আম্পায়ারের প্রশংসাও করেছেন তারা ওয়াইড না দেওয়ার জন্যে। তাদের মতে, বোলার ইচ্ছা করে ওয়াইড দিলে তা অন্যায়। তাই বলটি ওয়াইড না দিয়েই সঠিক কাজ করেছেন এই ব্রিটিশ আম্পায়ার। 

ওয়াইড বলের নিয়ম

প্রতিনিয়তই ক্রিকেটে নতুন নিয়ম কানুন দেখা যায়। খেলোয়াড়দের তা মেনে চলতে হয়। ক্রিকেটীয় আইন নিয়ে কাজ করে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব। এই ক্লাবের রুলবুকের ২২.৪.১ এ লেখা রয়েছে, কোনো বল আম্পায়ার ওয়াইড না দিতে পারেন যদি ব্যাটার বলটি পেটাতে এগিয়ে না আসেন কিংবা বল থেকে বিপরীত দিকে সরে না যান তবে। গতকাল কোহলিকে এই বলটির সময়ে অফসাইডের দিকে সরতে দেখা গিয়েছে। সাধারণত লেগস্ট্যাম্পের বাইরে থেকে বল বেরিয়ে গেলে আম্পায়ার ওয়াইড সিগন্যাল দেন। শুভমান গিল অবশ্য মনে করেন, ওয়াইড বল ইচ্ছাকৃত ছিল না। হয়তো বোলার স্ট্যাম্পে বল করতে গিয়ে ওটা হয়ে গিয়েছে। 

বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচে কী হল

উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। সাবধানী ব্যাটিং করে দুই ওপেনার লিটন ও তানজিদ তামিম ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়েন ৯৩ রানের। তবে দলীয় ১৩৭ রানে যেতে যেতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। লিটন ব্যক্তিগত ৬৬ রান করে বড় একটি শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ বাংলাদেশের স্কোরটিকে ভদ্রস্থ জায়গায় নিয়ে গেলেও ২৫৬ রান ভারতের জন্য যথেষ্ট ছিল না। প্রতিটি ম্যাচেই ভারত রান তাড়া করে জিতেছে৷ ৮ ওভার ৩ বল বাকি থাকতেই ভারত জয় তুলে নেয়। ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা ও শুভমান করে একত্রে ৮৮ রান। তখনই ভারতের জয় নিশ্চিত হয়ে গেছিল। এই বিশ্বকাপে সেরা রান সংগ্রাহকদের মধ্যে ১ নম্বরে আছেন রোহিত ও ২ নম্বরে আছেন বিরাট। তবে হার্শা ভোগলে ভারতের বোলারদেরও প্রশংসা করেছেন টুইটারে। জাদেজা ও কুলদীপ যাদব ম্যাচের মাঝপথে গতিরোধ করে উইকেট তুলে ভারতের জয়ের রাস্তা মসৃণ করে দেন। 

পাকিস্তান বনাম অস্ট্রেলিয়া 

শুক্রবার ব্যাঙ্গলোরে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। পয়েন্ট ও রানরেটে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ম্যাক্সওয়েল পাকিস্তানের বিপক্ষে বরাবরই ভালো খেলেন। তাছাড়া, মিশেল মার্শ ও জাম্পাও আছেন ফর্মে। অন্যদিকে, বাবর আজম, পাকিস্তানের অধিনায়ক গতবছর হোম সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুন পারফর্ম করেছিলেন। এখন পর্যন্ত ১০ বার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। যার মধ্যে ৬ বার জিতে অজিরা এবং চার বার পাকিস্তান। 

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button