দ্রুত বীর্য পাতের চিকিৎসা ও বিস্তারিত

দ্রুত বীর্য পাতের চিকিৎসা সমাধান ও প্রয়োজনীয় খাদ্য তালিকা

Premature Ejaculation বা দ্রুত পতন সাম্প্রতিক সময়ের বড় একটি সমস্যা হয়ে উঠেছে। যদি চিকিসা ও ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করা হয় তবে দ্রুত বীর্য পাত সমস্যা নিবারণ করা যায়।  সাধারণত দ্রুত পতন  প্রতিকারে অধিকাংশ মানুষ যৌন উত্তেজক ঔষধ সেবন করে থাকে যা আরো বেশি ক্ষতিকর। প্রথমে আমাদের দ্রুত বীর্যপাত সম্পর্কে আদ্যোপান্ত জানতে হবে।

দ্রুত বীর্যপাত কি?

সহবাসের সময় স্ত্রীর শারিরিক সুখ অনুভুত হবার পুর্বেই পুরুষের বীর্য ধরে রাখতে না পারার অক্ষমতাকে দ্রুত বীর্যপাত বলা হয়ে থাকে । তবে এক্ষেত্রে সময় সীমা কতটুকু হলে দ্রুত বীর্যপাত বলা হয় এটা সঠিকভাবে বলা দায়। তবে একজন সুস্থ্য পুরুষ প্রথম সঙ্গমে সর্বোচ্চ ১/২ মিনিট সময় পাবেন। ২য় বারও যদি ২-৩ মিনিট স্থায়ী হয় তাহলে সেটাকে দ্রুত বীর্যপাত হিসেবে ধরা যায়।

তবে দেশ এবং অঞ্চল ভেদে সময়ের বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। যেমন আরবের  কিংবা আফ্রিকার মানুষ স্বাভাবিক বীর্যপাতে যতটা সময় পাবে সে অপেক্ষা এশিয়া অঞ্চলের মানুষ কম সময় পাবেন। আর তাই ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাত কতটুকু সময় পেলে তা প্রিমেচিউর গণ্য হয় মেডিকেল সাইন্সে তার সঠিক কোন হিসেব এখন পর্যন্ত নেই।

দ্রুত বীর্য পাতের লক্ষণসমূহ

১।সব সময় বা ৭৫ থেক ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে সঙ্গিনীর পূর্বেই বীর্যপাত হয়।

২। সঙ্গিনীর মেজাজ সবসময় খিটখিটে হয়ে থাকে।

৩। সঙ্গিনীর সাথে যৌন অসন্তোষ বা দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকে।

৪। কখনো ২ মিনিটের বেশী বীর্য ধরে রাখতে পারেন না।

৫। সহবাসে নিজে তৃপ্ত না হওয়া। 

এই লক্ষণ গুলি দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যায় দেখা যায়।

দ্রুত বীর্য পাতের কারণ

 

শীঘ্র পতন বা Premature Ejaculation এর নানা কারণ থাকতে পারে। শারীরিক কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলঃ

  • থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা
  • মাদক সেবন
  • মুত্রথলির সংক্রমণ
  • ধূমপান করা
  • অতিরিক্ত মদ বা অ্যালকোহল সেবন
  • হৃদরোগ
  • ডায়বেটিস
  • সিফিলিস
  • গনেরিয়া
  • বিভিন্ন ঔষধ সেবনের কারণে।
  • কোন কারণে লিঙ্গ বা স্নায়ু তন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হলে

মানসিক কারণ গুলো হলোঃ

  • অতিরিক্ত উত্তেজিত থাকা
  • দীর্ঘ দিন পর পর সহবাস করা।
  • মানসিক চাপে থাকা
  • দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি
  • সেক্স সম্পর্কে ভয় বা ভুল ধারণা
  • বিকৃত যৌনাচার
  • নিজেকে ব্যর্থ ভাবা
  • শারীরিক দুর্বলতা
  • অল্প বয়সে যৌনাচার করা
  • সঠিক জ্ঞানের অভাব

এই সকল মানসিক কারণে দ্রুত বীর্যপাত হতে পারে।

মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতাঃ

দ্রুত বীর্য পাতের চিকিৎসা

 

মানসিক ভাবে শক্ত হওয়া দ্রুত পতন থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রথম কাজ । এক্ষেত্রে কার্যকরী খাবার গ্রহন ও প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন সর্বোত্তম ফল দেয়। সাথে মিলনের সময় কিছু কোউশল মেনে করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। ৯৫% রোগীই সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিসার মাধ্যমে  সুস্থ হয়ে যায়।

দ্রুত বীর্য পাতের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

১। ২৪ঘন্টার মধ্যে একের অধিকবার মিলন। এতে লিঙ্গের সেন্সিটিভিটি নিয়ন্ত্রণে আসবে।সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে বীর্য না থাকার কারণে বীর্যপাত হতে বেশ সময় লাগবে। যাদের দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা,তারা গ্যাপে গ্যাপে মিলন করলে প্রথমবার খুব একটা সময় বেশি পাবেন না। কিন্তু নিয়মিত করলে সময় বাড়বে।

২। মিলন চলাকালে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিবেন।আপনি যখন চরম মুহূর্তে যাবেন,তার একটু আগে গভীর শ্বাস বন্ধ রাখুন। এটা আপনার বীর্যপাতের রিফ্লেক্সটাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। এভাবে কয়েকবার করুন,আগের তুলনায় সময় কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে।

৩। লিঙ্গের মাথায় অবশকারক জেল বা স্প্রে ব্যবহার করা। তবে যাদের লিঙ্গের শীতলতার সমস্যা আছে তাদের জন্য ব্যবহার না করাই উত্তম।

৪। ব্ল্যাক কফি বা তরমুজের জুস,যেকোনো ধরনের উত্তেজক খাবার মিলনের আগে ও পরে খেলে শারীরিক উত্তেজনা বজায় থাকে। কফির মধ্যে ক্যাফেইন থাকে,যা মনকে সতেজ ও চাঙ্গা করে।

৫। বিভিন্ন প্রকার আসন- যা সহবাসের সময় দীর্ঘায়িত করে। এটা মনে রাখা দরকার যে,এক এক দম্পতির জন্য এক এক আসন উত্তম। বেস্ট মিলনের আসনের জন্য আপনাকে দশেরও বেশি আসনে চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারেন।

৬। মিলনের মাঝে ছোট ছোট বিরতি নেয়া। এতে বীর্যপাতের প্রবণতা কমে যায়। যদিও এই পদ্ধতিটা নারীদের জন্য একটু বিরক্তিকর, ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। সুবিধা পাবেন কয়েকমাস অনুশীলন করতে পারলে৷ একটানা নিয়মমাফিক করতে থাকলে বীর্যপাত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

৭। ফোরপ্লে অধিক সময় নিয়ে করতে হবে সঠিক নিয়মে। এখানে তাড়াহুড়ো করা যাবে না। কম উত্তেজিত জায়গা থেকে শুরু করে বেশি উত্তেজনাপূর্ণ জায়গার দিকে যেতে হবে।ক্লাইটোরিস,জি স্পট সম্পর্কে জানতে হবে।ফোরপ্লে স্বামী স্ত্রী দুইজনেই সমানভাবে করতে পারলে উপকার বেশি পাবেন।

৮। লিঙ্গ সঞ্চালনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা। শুরুতে ছোট ছোট গতিতে লিঙ্গ সঞ্চালন করা, তবে সেটা গভীর হতে হবে। এমনভাবে সঞ্চালন করা যাবে না যেন লিঙ্গের মাথায় সেনসেশন বেড়ে যায়৷ একটু সতর্কভাবে কোনাকুনি বা এঙ্গেলে লিঙ্গ সঞ্চালন করতে হবে।

৯। মনটাকে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া৷ বারবার যদি মনে করেন এই বুঝি বের হলো তবে আপনি পারবেন না৷ সত্যি বলছি, আপনি এটা থেকপ মুক্তি পেতে হিমশিম খেয়ে যাবেন। মনে করবেন আপনি অবশ্যই দীর্ঘ সময় নিয়ে মিলন করছেন, প্রতিদিন কয়েকবার ভাববেন। তবে একদিন সত্যি হবে ইনশাআল্লাহ্। মিলনের সময় অনেকেই কঠিন হিসাব নিকাষ করে মনকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে মিলনের সময় বৃদ্ধি করে।

দ্রুত বীর্য পাতের ঘরোয়া চিকিৎসা

তলপেটের পেশিগুলোকে শক্ত মজবুত দৃঢ় করতে পারলে সহবাসে সময় বৃদ্ধি পাবে। যেমন কেগেল, ইড়া পিঙ্গলা নাড়ির ব্যায়াম। এক্ষেত্রে কেগেল ব্যায়াম সবচেয়ে বেশী কার্যকরী।  কেগেল ব্যায়াম করার নিয়মঃ

  • এবার ১০ সেকেন্ড রাখার পর দুই পা আস্তে আস্তে নিচে নামান।
  • তারপর আবার ঠিক একইভাবে পা উপরে তুলুন এবং নামান।
  • এরপর আস্তে আস্তে কোমর বিছানার সাথে লাগিয়ে রেখে দুই পা একসাথে উপরে তুলুন।
  • পা ওপরে তোলার সময় দুইহাত বিছানায় টান করে লাগিয়ে রাখবেন।
  • প্রথমে ঢিলাঢালা কোন কাপড় পরিধান করে সমান জায়গায় বা বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন।

দিনে ২০ মিনিট ব্যায়াম করলেও ঘরোয়া উপায়ে শীঘ্রপতন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

দ্রুত পতনের স্থায়ী চিকিৎসা 

প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ ও নির্দেশিত খাবার খেয়ে দ্রুত বীর্যপাত রোধ করা যায়। বিশেষ কোন শারীরিক সমস্যা না থাকলে প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া উপায়েই এটি প্রতিকার সম্ভব। কিন্তু অন্য কোন রোগ থেকে এর সৃষ্টি হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

দ্রুত বীর্য পাতের চিকিৎসায় খাবার

কি খেলে বীর্য অনেক ঘন হয় এবং দ্রুত বীর্য পাত বন্ধ হয় এই চিন্তা আমাদের মাথায় সবসময়েই চলতে থাকে। এটাও সত্যি যে ধরণের রোগের চিকিসায় খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলি শীর্ঘ্রপতন রোধ করে। নিম্নে বর্ণিত খাবার গুলি নিয়মিত খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

  • তাছাড়া তরমুজ, পেয়ারা, আঙ্গুর, কমলা লেবু, মাল্টা, ডালিম প্রচুর পরিমাণে যৌন শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • গরুর লাল মাংশ ও এক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী।
  • সকালে ও রাতে খেজুর খান। খেজুর  শারীরিক ও যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে, যদি কোন ব্যাক্তি প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ ও একটি করে ডিম খায় তাহলে তার কখনো যৌন সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হবেনা।
  • মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এমন খাবার গ্রহন করুন। যেমনঃ  চিনা বাদাম, সূর্যমুখী ফুলের বীজ, কাজু ও পেস্তা বাদাম ও মিষ্টিকুমড়ার বীজ।
  • প্রতিদিন রসুন খান। সবচেয়ে ভালো হবে যদি কাচা রসুন ঘিয়ে ভেজে প্রতিদিন খাওয়া যায়। এভাবে না পারলে তরকারি তে এবং বিভিন্ন খাবারের সাথে রসুন খাওয়ার চেস্টা করুন। রসুন যৌন ও হৃদরোগে অত্যন্ত কার্যকরী

 

সতর্কতাঃ গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তার, ওঝা এবং নিজে নিজে ঔষধ সেবন করা থেকে বিরত থাকুন। এতে প্রবল ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button