দালাল ছাড়া বিদেশ যাওয়ার উপায় ২০২৪

দালাল ছাড়া বিদেশ যাওয়ার উপায়

বিদেশে যাওয়া প্রায় সব মানুষেরই স্বপ্ন। তবে বিদেশ যেতে গিয়ে দালালের চক্করে পড়ে অর্থ ও সময় দুইই নষ্ট হয়ে থাকে। অনেকেই জানতে আগ্রহী দালাল ছাড়া বিদেশ কীভাবে যাওয়া যায় তা সম্পর্কে। এই প্রতিবেদনে আমরা সেবিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। 

প্রথমত, দালাল ছাড়া বিদেশে তিনটি উপায়ে যাওয়া সম্ভব। 

. চাকরি প্রার্থী হিসেবে

. শিক্ষার্থী হিসেবে

. শ্রমিক হিসেবে

চাকরি প্রার্থী হিসেবেঃ আপনি যদি বিদেশে চাকরি প্রার্থী হিসেবে যান, তাহলে যে কোম্পানীতে চাকরি করবেন সেটা সম্পর্কে ভালো করে খোঁজ নিয়ে যেতে হবে। আপনি যে বিষয়ে কাজের ওপর দক্ষ, সে বিষয়ে কাজের জন্য আবেদন করতে হবে। সরকারি এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা বিনামূল্যে আপনাকে কাজের জন্য বিদেশ পাঠিয়ে থাকে। 

শিক্ষার্থী হিসেবেঃ শিক্ষার্থীদের জন্য দালাল ছাড়া সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার অনেক সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ফলাফল ও মেধা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মেধা, ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতা, ফলাফল, যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়। 

শ্রমিক হিসেবেঃ  শ্রমিক হিসেবে বিদেশ যাওয়ার জন্য সরকারি পত্রিকাগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিদেশের অনেক কোম্পানি আছে যারা বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়োগ করে থাকে নানা সেক্টরে কাজ করার জন্য। তবে, প্রায়ই দেখা যায়, শ্রমিকরা দালালদের চক্করে পড়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রচুর অর্থ নষ্ট করে। অথচ মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পার হলেও তাদের বিদেশ যাওয়া হয় না। দালালচক্র টাকা নিয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করে। তাই শ্রমিক হিসেবে সরকারি পথে বিদেশ যাওয়া বেশি নিরাপদ। 

দালাল ছাড়া বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ 

সরকারিভাবে বিদেশ যেতে হলে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা জরুরি। এমন কিছু ডকুমেন্ট আছে সেগুলো ছাড়া বিদেশ যাওয়া অসম্ভব। যেমনঃ 

. পাসপোর্ট

. ভিসা

. ব্যাংক একাউন্ট

. দূতাবাসের ঠিকানা এবং ফোন নম্বর

. চাকরির এপয়মেন্ট লেটার অথিবা শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে আমন্ত্রণ পত্র

. মেডিকেল রিপোর্ট

. টিকিট

. টাকা প্রদানের রশিদ

মেডিকেল খরচঃ 

বিদেশে যাওয়ার আগে প্রতিটি প্রার্থীর মেডিকেল চেকাপ করা খুব জরুরি। প্রার্থী শারীরিক ভাবে সুস্থ কিনা তা জানার জন্য মেডিকেল চেকাপ করা জরুরি। যে কোন হাসপাতাল থেকে মেডিকেল টেষ্ট করাতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা লাগতে পারে। 

দালাল ছাড়া বিদেশ যেতে কত টাকা লাগতে পারে? 

দালাল ছাড়া সরকারি উপায়ে বিদেশ গেলে খরচা তুলনামূলক ভাবে কম হয়। সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে হলে পাসপোর্ট, ভিসা, জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়প্ত্র, টিকিট ইত্যাদি ক্ষেত্রে টাকা খরচ হতে পারে। সরকারি ভাবে বিদেশ গেলে বিমান ভাড়া নিজের বহন করতে হয়। দালালের মাধ্যমে বিদেশ গেলে যেখানে ৩-৪ লক্ষ টাকা লাগে, সেখানে সরকারি ভাবে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে পুরো প্রসেস হয়ে যায়। 

বিদেশ যাওয়ার পূর্বে যেসব বিষয় নিশ্চিত হতে হবেঃ 

নিজের সব কাগজ পত্র ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। যেমনঃ 

পাসপোর্ট, ভিসা, চাকুরীর চুক্তিপত্র, ব্যাংক একাউন্ট, জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র, টাকা প্রদানের রশিদ, বিমানের টিকিট, মেডিকেল রিপোর্ট ইত্যাদি। 

কোম্পানির চুক্তিপত্র ঠিক আছে কিনা তা ভালো ভাবে চেক করতে হবে। যেমনঃ চাকুরির নাম, চাকুরিদাতার নাম, ঠিকানা, মাসিক বেতন, চাকুরির মেয়াদ, ছুটি ও সামাজিক নিরাপত্তা, নির্ধারিত কর্ম ঘটিকা, মেডিকেল সুবিধা, অসুস্থতার ছুটি, খাবার ভাতা, যাতায়াত ভাড়া, মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ বা লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা ইত্যাদি। 

দালাল ছাড়া সরকারি ভাবে যেসব দেশে যাওয়া সম্ভবঃ  সরকারি ভাবে মালয়েশিয়া, কুয়েত, কানাডা, ইতালি, চীন, ভারত, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, মালদ্বীপ, রোমানিয়া, ওমান, বাহারাইন, জাপান সহ মোট ১৭২ টি দেশে যাওয়া যায়। 

যেকারণে কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারেঃ 

১. কাজের ভিসা না থাকা। 

. ভিসার মেয়াদ শেষ হলে

. মেডিকেল টেস্টে জন্ডিস বা হাপানির মত রোগ এলে

. বে আইনি ভাবে কর্মক্ষেত্র থেকে পলায়ন করলে

বিদেশে সমস্যায় পড়লে করণীয়ঃ 

. যে দেশে কাজ করবেন তার আইন জেনে রাখতে হবে

. বাংলাদেশী দূতাবাসের ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংগ্রহে রাখা

. নিজস্ব কাগজ নিজের দায়িত্বে রাখা

. হাসপাতাল, পুলিশ স্টেশনের ঠিকানা জেনে রাখা

. বিদেশে নিজের ঠিকানা দেশে পরিবারকে জানিয়ে রাখা

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button