তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূরের উপায়

ত্বকের সঠিক যত্ন নিয়া একটি সুস্থ ও কোমল ত্বকের জন্য জরুরি। কিন্তু সব রকম ত্বকের যত্ন নেয়া সহজ নয়। একেক রকম ত্বকের যত্নে একেক রকম পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। তৈলাক্ত ত্বক সবচেয়ে স্পর্শকাতর ত্বকের মধ্যে একটি। এই জন্য সঠিক ভাবে  তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূরের উপায় জানতে হবে। 

বিভিন্ন ত্বকের মধ্যে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিয়া সবচেয়ে কঠিন ধরা হয়। কারণ বিভিন্ন সমস্যা লেগেই থাকে তৈলাক্ত ত্বকে,যেমনব্রণ ফুসকুড়ি,ব্রেকআউট ইত্যাদি। এছাড়াও তৈলাক্ত খুবই চ্যাটচ্যাট হওয়ার কারনে ধুলাবালি খুব সহজেই আটকে যায় এবং তেলের জন্য লোমকূপ গুলা বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয় যা বুণ হওয়ার প্রধান কারন। এই জন্যে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায় গুলা যা এবং সঠিক উপায়ে প্রয়োগ করা করা খুবই প্রয়োজন। এই আর্টিকেলে আমরা ওইগুলাই আলোচনা করবো।।

 তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূরের উপায় কি ঘরোয়া ভাবে সম্ভব?  

অবশ্যই সম্ভব! এই আধুনিক যুগে আমরা সবকিছুই যান্ত্রিক ভাবে করতে সাসছন্দ বোধ করি।কিন্তু যখন কথা হচ্ছে ত্বকের তখন ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করাই শ্রেয়। তৈলাক্ত ত্বক এমনিতেই বেশ স্পর্শকাতর তাই এতে যত সম্ভব ন্যাচারাল জিনিস গুলা ব্যবহার করা। তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূরের জন্যে ঘরোয়া পদ্ধতি গুলায় বেশ কার্যকরী। তাই সন্দেহ পোষণের কোনো যায়গা নাই।আপনি নিশ্চিতে পদ্ধতি গুলো প্রয়োগ করতে পারেন নিজের ত্বকে।

তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূরের কিছু ঘরোয়া উপায়ঃ

বেসনের ফেসপ্যাক

বেসন হলো প্রাকৃতিক ফেসওয়াশ, যা মুখের তেলতেলে ভাব দূর করে খুবই দ্রুত ত্বকের উজ্জলতা বাড়ায়, এছাড়া ত্বকের দাগও দূরে বেশ কার্যকরী। ফেসপ্যাক বানাতে একটি বাটি নিন,তাতে ২ চামচ বেসন ও ৪ চামচ দুধ নিয়ে একসঙ্গে ভালো করে গুলিয়ে নিন। এবার এই পেস্ট মুখে ও গলায় লাগান ভালো করে লাগান। এরপর ১৫ মিনিট পর অপেক্ষা করুন। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন। তারপর আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন এর কার্যকারীতা। এইটি সবচেয়ে বেশি কার্যকারী এবং সহজ তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দুরের উপায়।

ডিম, শসা পুদিনার প্যাক

আপনি যদি ত্সাবকের যত্ন নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তবে জানবেন যে ডিমের সাদা অংশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ডিমের সাদা অংশ ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে এবং ত্বক টানটান করতে সাহায্য করে। তাহলে হয়তো বুঝতেই পারছেন এই ডিমের অংশ কতটা উপকারী। এই প্যাকটি বানাতে ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে শসার রস ও পুদিনাপাতার পেস্ট ভালো করে মিশিয়ে নিন একটা বাটিতে। এরপর ভাল করে মুখে লাগাই নিন। কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। পুদিনার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান সাহায্য করবে আপনার ত্বকে ব্রণমুক্ত রাখতে। এ ছাড়া শসা আপনার ত্বক ঠান্ডা রাখবে। এই প্যাকটি সব রমক ভাবেই আপনার ত্বককে সাহায্য করবে। আপনি এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন নিশ্চতায়। 

লেবুর রস ও মধুর প্যাক

লেবুতে থাকা সাইট্রাস অ্যাসিডের সাহায্যে ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে ব্রণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এছাড়া লেবুর রস ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং ত্বকের বিভিন্ন দাগ দূর করতে খুবই কার্যকরী। অন্যদিকে মধু ত্বকের ভেতর থেকে আর্দ্রতা ধরে রাখে। এটি শুধু ব্রণের সমস্যাই দূর করে না, ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতাও বাড়ায়।

একটি পরিষ্কার পাত্রে এক চামচ লেবুর রস এবং এক চামচ মধু রাখুন। দ্রুত এবং কার্যকর ফলাফল পেতে, প্রথমে আপনার মুখ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, তারপর একটি তুলোর বল ব্যবহার করে আপনার মুখ এবং ঘাড়ে পেস্টটি লাগান। এটি ১৫ থেকে ২০ ঘন্টা রাখুন এবং আপনার মুখ এবং ঘাড় ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

বেসন ও টক দইয়ের প্যাক

আপনি সহজেই যে দুটি উপাদান খুঁজে পাবেন তা হল বেসন এবং চিনি। বেস আটার প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ভিটামিন রয়েছে, যা তৈলাক্ত ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শোষণ করে, যার ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং উজ্জ্বল দেখায়। চিনিতে ভিটামিন রয়েছে যা ব্রণকে নরম, মসৃণ এবং কমায়।

একটি বাটিতে দুই চা চামচ বেসন এবং এক চা চামচ হলুদ মিশিয়ে নিন। মিশ্রণে দুই ফোঁটা লেবুর রস এবং এক চিমটি হলুদ গুড় যোগ করুন। মিশ্রণটি মুখে এবং ঘাড়ে লাগান এবং এটি শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকনো প্যাকটি ২০৩০ মিনিট পর হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। প্যাকটি ঘষে ও তুলে ফেলার পরে, আপনার ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষগুলি সরিয়ে ফেলুন। সবশেষে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ও ঘাড় ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুবার ক্রিমটি লাগান, তবে একটানা ১৫ দিনের বেশি নয়। ১৫ দিন পর ব্যবহারের প্রয়োজন পরবে না, আপনিই নিজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন

পাকা কলার ফেসপ্যাক

পাকা কলার ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের যত্নের পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং কোমলতা বাড়াতে খুব কার্যকর।এটি ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করার পাশাপাশি লেবুর রস ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

কারণ মধু একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ব্রণ ও ব্রণের সমস্যা দূর করে প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। ১টি পাকা কলা, ২ চা চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ মধু নিন। কলার খোসা ছাড়ান, ঝাঁঝরি করুন মধু এবং লেবুর রসের সাথে ভালভাবে মিশিয়ে এটি থেকে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। একবার সেই পেস্টটি আপনার হাতে, মুখ এবং ঘাড়ে প্রয়োগ করা হয়ে গেলে, আপনাকে এটি গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং ১৫ মিনিট পর মুখ একটি নরম তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।। এই প্যাকটি সপ্তাহে ২৩ বার ব্যবহার করলে খুব ভালো ফল পাবেন। আপনার ত্বক হবে উজ্জ্বল।

কমলার ফেসপ্যাক

মুখের অতিরিক্ত তেল কন্ট্রোল করতে কমলালেবুর খোসার জুড়ি নেই। ২ চামচ কমলালেবুর খোসার গুঁড়া, ৪ চামচ দুধ, ১ চামচ কাঁচা হলুদবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা শুধু অতিরিক্ত তেলই কন্ট্রোল করবে না, ত্বককে করে তুলবে গ্লোয়িং। সপ্তাহে এক বা দুদিন করুন।

কাঁচা হলুদবাটা, চালের গুঁড়া, কমলার খোসার গুঁড়া এবং সামান্য মসুর ডালবাটা একসঙ্গে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক টানটান হবে।

কমলার ফেসপ্যাক

মুখের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণের জন্য ২ চামচ কমলালেবুর খোসার গুড্ডা, ৪ চামচ দুধ এবং ১ চামচ কাঁচা হলুদের পেস্টের মিশ্রণ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। মুখে লাগান এবং ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি শুধু অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করবে না, ত্বককে করবে উজ্জ্বল। অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সপ্তাহে একবার বা দুইবার করুন।

এটি অত্যন্ত সুপারিশ করা হয় যে আপনি কাঁচা হলুদ গুঁড়া, চালের গুঁড়া, কমলা গুঁড়া, এবং সামান্য মসুর ডালের গুঁড়া একসাথে আপনার মুখে লাগান এবং ১৫ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। আপনার যদি আলগা ত্বক থাকে তবে এটি এটিকে টানটান করে তুলবে। এটি একটী কার্যকারী তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দুরের উপায়।

ইতি কথা

তৈলাক্ত ত্বক অবশ্যই একটি চিন্তার কারন যেকোনো মেয়ের জন্যেই। তাই এর থেকে বাচার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে খুবই জলদি যাতে করে ব্রণ আমাদের থেকে আমাদের ত্বকের উজ্জলতা কেড়ে নিতে না পারে। এই ব্যাপারে উপরোক্ত তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দুরের উপায় গুলো অনেক বেশি সাহায্য করবে নিশসন্দেহ! তাই আর দেরি না করে এখনই উপায় গুলো প্রয়োগ করতে শুরু করেন।

ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ ও চিকিৎসা 

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button