জাতীয় স্লোগান জয় বাংলা অর্থ কি?

জেনে নেয়া যাক বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান জয় বাংলা অর্থ কি

রাজপথে ছাত্রদের মিছিলে উচ্চারিত হতে থাকে জয় বাংলা ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে  চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগেই।ছাত্রনেতারা ছাত্র আন্দোলনের মুখে বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সময়টাতেও এই স্লোগান দিয়েছিলেন।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয় একাত্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু মূল নীতির ভিত্তিতে।বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা যার মূলে ছিল।জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করে জয় বাংলা স্লোগান। প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার জয়বাংলা কে জাতীয় স্লোগান করে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের বিষয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার এই নির্দেশনা জারি করেছে বলে প্রজ্ঞাপন জানানো হয় ২০ফেব্রুয়ারি  ২০২২এ।

মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান জয় বাংলা অর্থ কি:

জয় বাংলা স্লোগান ব্যবহার করতে হবে কখনও কোথায়:
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে তিন-চারটে কেটাগরির কথা উল্লেখ করা আছে। অনুষ্ঠানের শেষে এটা বলবেন সাংবিধানিক পদধারী, রাষ্ট্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কর্মকর্তা।অ্যাসেম্বলি বা যেকোনো ধরনের সমাবেশ হলে সেখানে জয় বাংলা স্লোগান দিতে হবে। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-ইউনিভার্সিটিসহ তাদের কোনো সভা-সেমিনার  হয়।কেবিনেটের সিদ্ধান্ত হয় যে এটা জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।আনন্দিত হয় এমন সিদ্ধান্তে সবাই। জয় বাংলা মুক্তিযোদ্ধাদের স্লোগান, মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন।জাতীয় স্লোগান আছে বিশ্বের প্রায় ষাটটি দেশে। এটি যেমন গৌরবের বিষয় তেমন আশাজাগানিয়া খবর।জয় বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে প্রজ্ঞাপন বলে। সব জাতীয় দিবস উদযাপন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা স্লোগান উচ্চারণ করবেন সাংবিধানিক পদাধিকারীরা, দেশ ও দেশের বাইরে কর্মরত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।সভা-সেমিনারে বক্তব্যের শেষে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা জয় বাংলা স্লোগান উচ্চারণ করবেন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক দিনের সমাবেশ শেষ হওয়ার পর।সাফল্য, বিজয়, যুদ্ধাদি’ দ্বারা অধিকার, পরাভূত করা, দমন, শত্রু দমন, আনন্দ, ফুর্তি, খুশি ইত্যাদি বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে ‘জয়’ শব্দের অর্থ। ভাষা, বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জয়বাংলার অর্থ দাঁড়ায়।   আরও অনেক ব্যাপকভাবে বিস্তৃত আমাদের অস্তিত্বে এই জয়বাংলা শব্দের শ্লোগানের ব্যবহার ও কার্যকারিতা। বাঙালির জয় হোক,বাংলা বাঙালির হোক,বাংলার জয় হোক।সাতকোটি কণ্ঠে বেজে ওঠে বাঙালির হৃদয়ে লালিত ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই অবিনাশী পঙক্তিমা।আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিব হয়ে ওঠেন স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্রপথি ১৯৪৭-এর পর থেকেই।আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়।একই স্লোগান জয় বাংলা, জয় শেখ মুজিব দেয়া হয় সারা বাংলায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত ‘জয়বাংলা’ স্লোগান হয়ে যায় সব মুক্তিকামী মানুষের সরাসরি এই নামকরণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের গণ্ডি অতিক্রম করে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করেছিল মুক্তিযুদ্ধে জয় বাংলা স্লোগান। জয় বাংলা স্লোগান ঐক্যে ফাটল ধরে স্বাধীনতার পর। এসব বিষয় গত ৫০ বছরে।মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান জয় বাংলা।
এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে এই স্লোগান কীভাবে বাংলাদেশের হয়েছিল।রাজপথে ছাত্রদের মিছিলে উচ্চারিত হতে থাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেন-“ঘূর্ণিঝড়ে ১০ লাখ মারা গেছে, স্বাধিকার অর্জনের জন্য বাংলার আরো ১০ লাখ প্রাণ দিবে ১৯৭০ সালের ২৮ নভেম্বর এক সাংবাদিক সম্মেলনে।পূর্ব পাকিস্তানের মোট ১৬৯ আসনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জয় বাংলা ধ্বনিতে আওয়ামী লীগ জয় করে ১৬৭ আসন ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে।বাঙালি জাতির বজ্রকঠিন ঐক্য প্রমাণিত হয়। বঙ্গবন্ধু মুজিবের মৃত্যুঞ্জয়ী মন্ত্র জয় বাংলার শক্তি আরও অপরিসীম হয়ে ওঠে।বাংলার মানুষের বুকের গভীরে বাঙালিত্ব জাগানোর সফল হাতিয়ার, সাধারণ বাঙালিকে বিশ্বসেরা বীর বাঙালিতে পরিণত করার কার্যকর দাওয়াই,যা ছিল- বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্ম-বর্ণ-মতভেদ নির্বিশেষে আমাদের একাত্ম হওয়ার মূল মন্ত্র, বাংলার মানুষের বুকের গভীরে বাঙালিত্ব জাগানোর সফল হাতিয়ার।শেখ মুজিব, বীরবাঙালি অস্ত্র ধরো/ বাংলাদেশ স্বাধীন করো, তোমার আমার ঠিকানা/ পদ্মা মেঘনা যমুনা, জাগো জাগো/ বাঙালি জাগো বাংলা/ জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘তোমার নেতা আমার নেতা/ শেখ মুজিব, শেখ মুজিব। বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলন করেন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা আসম আব্দুর রব ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা।জয় বাংলা স্লোগান সেইসঙ্গে বার বার উচ্চারিত। বাঙালি বাংলা, জয় বাংলা’ ধ্বনিতে উদ্বেলিত।
রাজপথে হতাহত হয় অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষ পাকবাহিনীর হামলায়। বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’- ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত’ হিসেবে গাওয়া হয় ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে পরিবেশন করা হয়। সেইসঙ্গে আমাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্র প্রচার করা হয়। যার যা-কিছু আছে তাই নিয়ে দেশের সব মানুষ এই বাংলাকে শত্রুমুক্ত করার জন্য ‘জয় বাংলা’ বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে মরণপণ যুদ্ধে ৭ মার্চে দেয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনা অনুসারে।
এই যুদ্ধেরও প্রধান হাতিয়ার ছিল জয় বাংলা স্লোগান।রাজপথে ছাত্রদের মিছিলে উচ্চারিত হতে থাকে জয় বাংলা স্লোগানটি ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগেই। এই স্লোগান দিয়েছিলেন ছাত্রনেতারা ছাত্র আন্দোলনের মুখে বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সময়টাতে।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয় একাত্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু মূল নীতির ভিত্তিতে।বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা যার মূলে ছিল।জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করে একাত্তরে জয় বাংলা স্লোগান। জয় বাংলা স্লোগান দেয়া মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস অর্জনের পথ ছিল কণ্ঠ আকাশে তুলে জয় বাংলা ছিল তাদের বীরত্ব প্রকাশের ভাষাটি।মানুষ বার বার উচ্চারণ করে জয়বাংলা স্লোগান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিকামী। তখন প্রকাশিত হতো একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা জয়বাংলা’ নামে রণাঙ্গন থেকে।জয়বাংলা স্লোগান ছিল সবার মুখ ও বুকে।আমাদের স্বাধীনতার পক্ষের লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে পাকিস্তানের সমর্থক বাহিনী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ‘জয় বাংলার লোক’ অভিহিত করেই।১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বিকেল ৫ টায় বাংলাদেশ ও ভারতের মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সৈন্যরা করে শর্তহীন আত্মসমর্পণ অবশেষে বীর বাঙালির ৯ মাসের মরণপণ যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে।মুজিবের চির কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।বিশ্বনন্দিত বিজয়ী বীর বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন ও দিল্লি হয়ে শেষে ১০ জানুয়ারি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের রক্তাক্ত মাটিতে পা রাখেন। সবার কণ্ঠে প্রিয় নেতাকে বরণ করার স্লোগান জয়বাংলাই ছিল।

আমাদের স্বাধীনতার পক্ষের লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে পাকিস্তানের সমর্থক বাহিনী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ‘জয় বাংলার লোক’ অভিহিত করেই।বিকেল ৫ টায় বাংলাদেশ ও ভারতের মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সৈন্যরা করে শর্তহীন আত্মসমর্পন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ৯ মাসের মরণপণ যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে। মুজিবের চির কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন বাংলাদেশ  দরবারে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বিশ্বনন্দিত বিজয়ী বীর বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন ও দিল্লি হয়ে শেষে ১০ জানুয়ারি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের রক্তাক্ত মাটিতে পা রাখেন।প্রিয় নেতাকে বরণ করার স্লোগান  কণ্ঠে সেদিন জয়বাংলাই ছিল। উপমহাদেশে সবচেয়ে প্রেরণাদায়ী, তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান জয় বাংলা। জয় বাংলার ক্ষেত্রে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে খুবই বন্ধুর পথ অথচ ভারতে ‘জয়হিন্দ’ ও পাকিস্তানে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ যে সার্বজনীনতা পেয়েছে। জয় বাংলা রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে সর্ব্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরেও। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ এখানে এসেছে জয় বাংলা। ৫০ বছর পর স্বাধীনতার।স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সময় ‘জয় বাংলা’ ব্যবহার করা হতো মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। জয় বাংলা, বাংলার জয় ছিল এই বেতার কেন্দ্রের স্বাক্ষরসংগী।প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের প্রথম বেতার ভাষণটি শেষ হয়েছিল ‘জয় বাংলা, জয় স্বাধীন বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে প্রচারিত  স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ১১ এপ্রিল ১৯৭১। তাদের একাত্তর দেখা হয়নি,যারা নতুন প্রজন্ম ;১৯৯২ সালে দিবসে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণ-আদলত গঠনের সময় প্রথমবারের মতো ‘জয় বাংলা’র শক্তি অনুভব করেছে।শাহবাগের গণ-জাগরণের সময় ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বার অদেখা মুক্তিযুদ্ধের স্বাদ পেয়েছে। রক্ত দিয়ে কেনা হারিয়ে যাওয়া প্রিয় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় সারা দেশ অনেক বছর পর।মালিক বাংলাদেশ তাই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে দল-মত নির্বিশেষে আপামর গণমানুষের মুখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চারিত হয় জয় বাংলা,জয় বাংলা কোনো দলীয় স্লোগান নয়।বঙ্গবন্ধু আবার ফিরে এসেছেন আরও তেজোদীপ্তভাবে,এক সময় ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটিকে নির্বাসিত করা হয়েছিল।অনেক সহজতর হয়েছে জয় বাংলা’কে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল দেশ পরিচালনা করছে তাই কাজটি সহজ হয়েছে এবং সর্ব্বোচ্চ আদলত জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করেছে। দলীয় স্লোগান হিসেবে দেখিয়ে বিতর্কিত করা হয়েছে   বিভক্তির রাজনীতি থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্লোগানকে।অবশেষে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি পেল জয় বাংলা।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button