জমির রেকর্ড যাচাই ও মালিকানা বের করার উপায়

অনেক সময় বিভিন্ন কারনে আমাদের অনেকের জমির রেকর্ড যাচাই বা মালিকানা বের করার প্রয়োজন হয়। কাজটি মোটেও সহজ কিছু নয়। জমির মালিকানা কার নামে আছে তা জানার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। এতে একদিকে যেমন প্রচুর সময় ব্যয় হয় অপরদিকে কাজটি করতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে এখন দিন বদলেছে। বর্তমানে আপনি ঘরে বসে অনলাইনেও জমির মালিকানা খুব সহজেই বের করতে পারবেন। এতে করে আপনার কোনো কার্যালয়ে দৌড়ঝাপ করার প্রয়োজন হবে না। ইন্টারনেটের এই যুগে যখন প্রায় সবকিছুই অনলাইন নির্ভর হয়ে গেছে তখন বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে জমির মালিকানা বের করার বের করার মতো জটিল কাজও একটি এন্ড্রয়েড ফোন হাতে থাকলে আপনি খুব সহজেই বের করে ফেলতে পারবেন। আজকে আমরা জানবো অনালাইনে জমির মালিকানা বের করার উপায় সম্পর্কে।

জমির খতিয়ান বা পর্চা কি?

একটি জমির মালিকানা প্রমাণের সরকারি যে দলিল থাকে তা ই হল জমির খতিয়ান। জমির খতিয়ানকেই জমির পর্চাও বলে। আসলে অঞ্ছলভেদে একেক জায়গায় এটাকে একেক নামে ডাকা হয়। মূলত দুটি একই জিনিস। জমির পর্চার সংঙ্গা আরো বিস্তারিত ভাবে দিতে বলতে গেলে যা দাড়ায় তা হলো সরকারিভাবে কোনো জমি জরিপ করার সময় জরিপের বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ ফর্ম নম্বর ৫৪৬২ তে জমির দাগ / মালিকানার বর্ননা সহ যে নথিচিত্র প্রকাশ করা হয় তাকেই বোঝায়।

জমির পর্চা বা খতিয়ানের প্রকারভেদ:

 

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনটি জরিপ হয়েছে। এ তিনটি জরিপের উপর ভিত্তি করে জমির খতিয়ানের প্রকারভেদ গুলো হলো ঃ
১।সি এস খতিয়ান
২। এস এ খতিয়ান
৩। আর এস খতিয়ান
শেষ প্রকার পর্চার আরো একটি উপ-পর্যায় আছে । তা হলো বিএস খতিয়ান বা সিটি জরিপ।

জমির মালিকানা বের করার প্রয়োজনীয়তাঃ

আপনি হয়তো প্রায় সময়ই দেখতে পাবেন অনেক মানুষ জানেইনা যে বাবা, মা , দাদা,দাদির সম্পত্তির ওয়ারিশ হিসেবে তাদের মালিকানাধীন জমিতে সেই ব্যক্তির অংশ বা মালিকানা আছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একই জমিতে কয়েকজনের মালিকানা থাকলে হয়তো একজন ইচ্ছাকৃত ভাবে অপরজনের মালিকানার অংশের ব্যপারটি অস্বীকার করে বসে। এক্ষেত্রে জমির খতিয়ান দেখে মালিকানা বের করা খুবই জরুরী হয়ে পড়ে। এছাড়াও আপনি যখন কারো থেকে জমি কিনতে যাবেন তখন অবশ্যই জমির খতিয়ান যাচাই করে দেখবেন। কারন ভুয়া অথবা মিথ্যা মালিক সেজে জমি বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পরার নজিরও বাংলাদেশে কম নেই। তাই জমি ক্রয় কিংবা মালিকানার অংশ খুজতে বা অন্যান্য যেকোনো প্রয়োজনেই জমির মালিকানা বের করার প্রয়োজন হতে পারে।

জমির রেকর্ড যাচাই ও মালিকানা বের করার নিয়মঃ

অনলাইনে জমির মালিকানা বের করার জন্য আপনাকে প্রথমে কিছু তথ্য দিতে হবে। আর সেগুলো হলঃ

১। জমির স্থান অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার ব্যাপারে জানতে হবে
২। জমির খতিয়ান/দাগ নম্বর জানতে হবে।
৩। খতিয়ানের প্রকার নির্ধারন করতে হবে
৪। সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করতে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও মোবাইল নম্বর জানতে হবে।

অনলাইনে জমির মালিকানা বের করার জন্য প্রথমেই আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হলো- http://www.eporcha.gov.bd এই লিংকে প্রবেশ করতে হবে। এরপর যে কাজগুলো করতে হবে তা নিচে পয়েন্ট আকারে দেয়া হলো
১। লিংকে প্রবেশ করার পর দেখতে পাবেন আপনাকে একটি ফর্ম দেখানো হচ্ছে। এবার ফর্মটিতে প্রথমে বিভাগ এবং এরপর জেলা সিলেক্ট করুন। এবার আপনি যে ধরনের খতিয়ানের তথ্য জানতে চান তা কি বি এস, সি এস, আর এস, বি আর এস, এস এ, দিয়ারা, পেটি নাকি নামজারি তা সিলেক্ট করতে হবে।

সিলেক্ট করা হয়ে গেলে এবার আপনার উপজেলা ও মৌজা সিলেক্ট করুন। তারপর পর্চা খুঁজে পাওয়ার জন্য

●পর্চা / খতিয়ান নম্বর
●দাগ নং
●মালিকানা নং
●পিতা/ স্বামীর নাম

এখান থেকে যেই অপশনগুলোর ব্যাপারে আপনার তথ্য আছে তা নির্বাচন করে পূরন করুন। এই তথ্যগুলোর দেয়ার মাধ্যমে আপনি জমির আসল মালিকানা কার সে বিষয়ে খোঁজ পেয়ে যাবেন। আপনি জমির মালিকের নাম দিয়েও জমির আসল মালিক কে তা যাচাই করতে পারবেন।

২। উপরের তথ্যগুলো দেয়া হয়ে গেলে এবার আপনি একটা ক্যাপচা কোড দেখতে পাবেন। পাশের খালিঘরে সেই ক্যাপচা কোড পূরন করার পর, অনুসন্ধান করুন নামে একটি বাটন দেখতে পাবেন, এবার সেই বাটনটিতে ক্লিক করুন। যদি আপনার দেওয়া সবগুলোর তথ্য সঠিকভাবে হয়ে থাকে, তবে আপনি এবার পরবর্তী পেইজে সেই পর্চার মালিকানার তথ্য পেয়ে যাবেন।

৩। যদি জমির মালিকানা একজনের হয়ে থাকে তবে একজনের আর যদি বেশ কয়েকজন মালিকানা থাকে তাহলে প্রত্যেকের নাম আপনি দেখতে পাবেন। এভাবে পুরো কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে আবেদন করুন বাটনটিতে ক্লিক করুন। এতে করে জমির সার্টিফাইড কপির জন্য অনলাইনে আবেদন গৃহীত হয়ে যাবে।

জমির খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি যেভাবে সংগ্রহ করবেনঃ

আবেদন করুন বাটনটিতে ক্লিক করার পর আবেদনকারীর তথ্য হিসেবে খতিয়ান নং , উপজেলা ও মৌজা উল্লেখ করতে হবে। এরপর আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, মোবাইল নাম্বার, ইংরেজীতে পূর্ণ নাম এবং আপনি জাতীয় পরিচয়পত্রে আপনার যে ঠিকানা উল্লেখ করেছেন তা উল্লেখ করুন। এরপর মোবাইল নাম্বারের পাশে যাচাই করার অপশনটি সিলেক্ট করুন। ক্লিক করার পর আপনার উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হবে, তা এখানে লিখুন। এরপর আপনি আবেদনের ধরন হিসেবে সার্টিফাইড কপি নির্বাচন করুন এবং ডেলিবারির মাধ্যম ও স্থান সিলেক্ট করুন। তারপর পেমেন্টের মাধ্যম হিসেবে আপনি আপনার পছন্দমতো অপশন বাছাই করুন। এরপর আপনাকে একটা গানিতিক সমস্যার সমাধান করতে দেয়া হবে, তা শেষ হলে আপনাকে বাছাইকৃত পেমেন্ট মডিউলে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ৯০ টাকা ফি প্রদান ও ওটিপি কোড প্রদান করে আবেদনপত্রটি সাবমিট করুন। আবেদন করার ১০ দিন পর জমির খতিয়ানের সার্টিফাইড কপিটি স্থানীয় ডাক ঠিকানা থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button