চট্টগ্রামের সেরা বেসরকারি কলেজ সমূহ

চট্টগ্রামের সেরা বেসরকারি কলেজ সমূহঃ

 

বেসরকারি কলেজ বলতে সাধারণত বোঝায় যে কলেজগুলো সরকার থেকে অনুদান পায় না এবং ব্যক্তি মালিকানায় চলে সেগুলো।  বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিভাগেই বেশ কিছু বেসরকারি কলেজ রয়েছে। সাদারণত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো সরকারের রাজস্ব থেকে কোনো বেতন পায়না তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকার থেকে বেতন এবং কিছু পরিমাণ বাসা ভাড়া পায়। শুধু বাংলাদেশেই নয় , পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই বেসরকারি কলেজ রয়েছে। বাংলাদেশের মতো বহু দেশেই বেসরকারি কলেজের সংখ্যা সরকারি কলেজ থেকে বেশি। যাইহোক , বাংলাদেশের অন্যান্য বিভাগের মতো চট্টগ্রাম বিভাগেও অনেক স্বনামধন্য বেসরকারি কলেজ রয়েছে। এসব কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেক চট্টগ্রামের সেরা বেসরকারি কলেজ সমূহ এর ব্যাপারে বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেয়া হলো।

পাহাড়তলী কলেজ 

পাহাড়তলী কলেজ চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত। কলেজটি ১৯৬৫ সালে স্থাপিত হয়েছিল। কলেজটিতে রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব ও আধুনিক বিজ্ঞানাগার। আরও রয়েছে সেমিনার কক্ষ, গ্রন্থাগার। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য বিশাল মাঠ রয়েছে। পাহাড়তলী কলেজে শিক্ষার্থীদের দক্ষ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পাঠদান করা হয়। এই কলেজে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এ পড়ার সুযোগ আছে সেই সাথে আরও আছে স্নাতক কোর্সের ব্যবস্থাও কলেজটি পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে। পাহাড়তলী কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ একটি কলেজ। 

ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ 

ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজটি অবস্থিত চট্টগ্রামের জাকির হোসেন রোডে। এই স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৯ সালে যাত্রা শুরু করে। কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি। ১৯৮৯৯০ শিক্ষাবর্ষ থেকে এখানে প্রথম উচ্চমাধ্যমিক শাখা চালু করা হয়েছি। কলেজের শিক্ষার্থীরা ১৯৯১ সালে প্রথমবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারীতে প্রতিষ্ঠানটিতে মাসব্যপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা , পুরষ্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এই কলেজের লাইব্রেরিতে রয়েছে ২০০০ এর অধিক বই। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুবিধার্থে এখানে রয়েছে নানারকম ইনডোর গেমের ব্যবস্থা। প্রতিবছর এখানে ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা করা হয়। কলেজে বিজ্ঞান , মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা তিনটি বিভাগেই শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হয়। শিক্ষার্থিদের জন্য আরো আছে জীববিজ্ঞান , রসায়ন, পাদার্থ বিজ্ঞান , ও কম্পিউটার ল্যাবের সুব্যবস্থা। 

ওমরগণি এম এস কলেজ

কলেজটির পুরো নাম ওমরগণি মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি। এই কলেজটি চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় জাকির হোসেন রোডে অবস্থিত ওমরগণি এম ই এস কলেজটি এম ই এস কলেজ নামেই বেশি পরিচিত। এম এ এস কলেজ স্থাপিত হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। চট্টগ্রামের জিইসি মোড় থেকে দক্ষিনপশ্চিমে কলেজটি অবস্থিত। কলেজটির অধ্যক্ষ হলেন আ ন ম সরওয়ার আলম এখানে বিজ্ঞান ,মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় উচ্চমাধ্যমিক পড়ার পাশাপাশি ডিগ্রি ও স্নাতক কোর্সের ও ব্যবস্থা আছে। প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থি প্রতিবছর এখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী সংখ্যা মোট ৬৪০০। কলেজটিতে দুটি বিশাল লাইব্রেরি রয়েছে , শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি কার্ডের মাধ্যমে এখান থেকে বিনামূল্যে বই নিতে পারে। চট্টগ্রামের বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে এম ই এস কলেজ সবচেয়ে বড়। শিক্ষা ছাড়াও এই কলেজ ছাত্র রাজনীতির জন্য বেশ আলোচিত। 

সীতাকুন্ড কলেজ 

সীতাকুন্ড কলেজ বা সীতাকুন্ড ডিগ্রি কলেজ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত। এই কলেজটি ১৯৬৮ সালে যাত্রা শুরু করে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন নিরুপমা মুখার্জি। সীতাকুন্ড কলেজ এর নিজস্ব জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত।  এই কলেজটিতে তিনটি একাডেমিক ভবন রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠাতা নিরুপমা মুখার্জীর নামে একটি ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। কলেজ সংলগ্ন মসজিদটিও কলেজটির অন্তর্ভুক্ত। কলেজটিতে বিজ্ঞান ,মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা  বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এ পড়ার সুযোগের পাশাপাশি কলেজটিতে বিএ , বিএসএস, বিবিএস ও বিবিএ কোর্সের ব্যবস্থাও আছে  

হাজেরাতজু ডিগ্রী কলেজ

হাজেরাতজু ডিগ্রী কলেজ চট্টগ্রাম জেলার চাঁন্দগাও এ অবস্থিত। কলেজটি স্থাপিত হয় ১৯৯১ সালে। এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন চট্টগ্রাম ৮ নং আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী আলহাজ্জ নুরুল ইসলাম বিএসসি। তিনি তার পিতাতজুও মাতাহাজেরা” –এর নাম অনুসারে এই কলেজটির নামকরণ করেন হাজেরাতজু ডিগ্রী কলেজ। কলেজটি প্রাথমিকভাবে মহিলা কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৯৫ সাল থেকে তা ছাত্রছাত্রী সকলের জন্য পড়ার সুযোগ করে দেয়। কলেজটিতে বেশ কিছু একাডেমিক ভবন রয়েছে। এখানে পড়াশোনার জন্য রয়েছে শান্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশ উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি এখানে স্নাতক কোর্সের ব্যবস্থাও আছে। 

চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ

চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি রোডে অবস্থিত।  এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ 

সেনাবাহিনীর আয়ত্বাধীন একটি কলেজ। নিঃসন্দেহে এটি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে একটি। এটি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের পূর্ব সীমানায় প্রায় ২০ একর এর বিশাল জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৬১ সালে স্থাপিত হয়। কর্নেল মুজিবুল হক সিকদার চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে আছেন। প্রতিষ্ঠানটি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা , নিয়মানুবর্তিতা সহ অন্যান্য ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। এখানে প্রতিবছর আবৃত্তি , বিতর্ক, চিত্রাংকন , দেয়াল পত্রিকা সহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান এবং পরিবেশ , ফলাফলসহ অন্যান্য ব্যাপারগুলো এই কলেজটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। 

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ 

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ বাংলাদেশের প্রথম ক্যাডেট কলেজ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পূর্ব পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর প্রতিষ্ঠা সাল ১৯৫৮। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব নাম ছিল ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ।  কলেজটি চট্টগ্রাম জ্জেলার সীতাকুন্দ উপজেলার ফৌজদারহাটে অবস্থিত। এই কলেজটিতে রয়েছে সুবিশাল এক পাঠাগার যাতে ১০০০০এর ও অধিক বই এর সংগ্রহ রয়েছে। কলেজটিতে রয়েছে চারটি হাউজ। প্রতিটি হাউজের নিজস্ব নাম, রঙ, প্রতীক ও মূলনীতি রয়েছে। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের বেশ কিছু ক্যাডেটরা মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ন অবদান রেখেছে। কলেজ অডিটরিয়ামের পেছনে কলেজের একটি মিউজিয়ামও রয়েছে যাতে প্রাক্তন ক্যাডেটদের  ছবি ও তাদের নামের তালিকা রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থিদের গ্রন্থগত বিদ্যার পাশাপাশি শারিরীক, চারিত্রিক, মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাগত মান ও পরিবেশ অতুলনীয়। 

বি এফ শাহীন কলেজ

বি এ এফ শাহীন কলেজ চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত। বিখ্যাত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৮ সালে স্থাপিত হয়েছিল।  বি  এ এফ শাহীন কলেজ বাংলাদেশ বিমানবাহিনী  দ্বারা পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কলেজটির পরিবেশ খুবই মনোমুগ্ধকর এটি কর্ণফুলী নদীর তীরে, বিমান বাহিনীর জহুর আহমেদ বিমান ঘাঁটির ভেতর অবস্থিত। এখানে রয়েছে বিশাল পাঠাগার যাতে ৭০০০ এর মতো বই রয়েছে। আরও রয়েছে যুগোপযোগী ল্যাব। শিক্ষার মান, পরিবেশ ,ফলাফল ও অন্যান্য কারনে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রামের অন্যতম সফল ও বিখ্যাত কলেজ হিসেবে সুনাম আছে। 

বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ 

এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের সিইপিজেড এলাকায় নাবিক কলোনি১ এর অভ্যন্তরে অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠীত হয় ১৯৭৭ সালে। এর অভ্যন্তরে একটি মাঠ ও একটি বাস্কেটবল গ্রাউন্ড রয়েছে। অভ্যন্তরে রয়েছে উন্নতমানের কম্পিউটার ল্যাবসহ অন্যান্য ল্যাব। আরো রয়েছে ৬০০০ বইয়ের সমারোহে একটি বিশাল লাইব্রেরি। কলেজ ভবনে রয়েছে ৬ টি শ্রেনিকক্ষ ,৪ টি গবেষণাগার। কলেজটি প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৯৫ সাল থে এখানে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ ও যোগ হয়। 

আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ 

আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ চট্টগ্রাম জেলার ডবলমুরিং থানার অন্তর্গত আগ্রাবাদে অবস্থিত। কলেজতি স্থাপিত হয় ১৯৮৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী।  এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।  প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চমাধ্যমিক এর পাশাপাশি , ডিগ্রি কোর্সের ও সুব্যবস্থা রয়েছে। নারী শিক্ষার প্রচার অ প্রসারের লক্ষ্যে এই কলেজের নির্মাতা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button