ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম হতে পারে বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়

২০২৩ সালে ইতিমধ্যে দেখা মিলেছে তিনটি ঘূর্ণিঝড়ের – তেজ, হামুন এবং মিধিলি। তবে, বছরের শেষ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হতে পারে মিগজাউম। গত শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) আবহাওয়া ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচিওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। 

ওয়েবসাইট থেকে আরও জানা গিয়েছে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা এবং ভারতীয় উপমহাদেশের ওপর সাবট্রপিকাল জেট স্ট্রীমের অবস্থানের পরিবর্তনের ফলে লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

এটি গভীর নিম্নচাপে বদল হবার সম্ভাবনা আছে ২৯ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে, যা পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে ১ ডিসেম্বর এবং ২ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল যেমন: বরিশাল, চট্টগ্রামে আঘাত হানতে পারে। এছাড়াও, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের স্থল ভাগেও মিগজাউম আছড়ে পড়তে পারে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে দেখা গেছে ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের আকাশে মেঘের উপস্থিতি নেই বললেই চলে, যা নিম্নচাপের এক জোরদার সংকেত। গত শুক্রবার ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় বায়ুচাপ পরিমাপ করা হলে ১০১৬ মিলিবার ফল পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ভারতের বিহারে বায়ুচাপ মেপে দেখা গেছে ১০১৪ মিলিবার। যা ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উচ্চ বায়ুচাপ নির্দেশ করে। 

বায়ুচাপ সাধারণত উচ্চাবস্থা হতে নিম্নের দিকে যাত্রা করে। বায়ুর উচ্চচাপ যুক্ত অঞ্চলে মেঘ সৃষ্টি হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে, শুক্রবার বাংলাদেশের কিছু এলাকায় ও ভারতের কোন কোন রাজ্যের ওপর দিয়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।

ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের আবহাওয়া মডেল অনুযায়ী শুক্রবার দুপুর ২ টা থেকে শনিবার দুপুর ২ টার মধ্যে বাংলাদেশে ও পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই।

তবে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ভারী কুয়াশা দেখা যেতে পারে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও বর্ধমান জেলার ওপর। আগামী ২৫ থেকে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে ভারতের আন্দামান-নিকোবরে প্রবল লঘুচাপের সম্ভাবনা আছে। 

কৃষকদের জন্য পরামর্শ 

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির জন্য বাংলাদেশের কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, জমিতে পাকা ধান থাকলে তা কেটে জমা করতে। শীতকালীন শাকসবজি জমিতে থাকলে জল জমে নষ্ট হতে পারে৷ তাই, সেগুলোও দ্রুত তুলে সংরক্ষণ করতে হবে। 

সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য বার্তা

মিগজাউম ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য ও কক্সবাজারের উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল। তাই, দ্বীপের জেলেদের ২৮ নভেম্বরের মধ্যে উপকূলে ফেরত আসতে বলা হয়েছে৷ হামান ও মিধিলি শেষ দুটি ঘূর্ণিঝড় অপেক্ষা মিগজাউম অধিক শক্তিশালী হওয়ার আশংকা করছেন আবহাওয়াবিদ রা। তাই জেলেদের হিসাব করেই সমুদ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের উদ্দেশ্য বার্তা

২৮ নভেম্বর হতে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে টু টেকনাফ নৌযান বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই, ২৮ নভেম্বর এর আগে পর্যটকরা সেন্টমার্টিন ত্যাগ না করলে আটকে পড়ার সম্ভাবনা আছে। 

Leave a Comment