কোলেস্টেরল লক্ষণ ও ঝুঁকি এড়াতে যা যা জানতে হবে

কোলেস্টেরল লক্ষণ ওঝুঁকি এড়াতে যা যা জানতে হবে

রক্তে কোলেস্টেরেল বৃদ্ধি পেলে আপনি হার্ট এ্যাটাক থেকে স্ট্রোক এর ঝুঁকি চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পায় সাথে দেখা অনেক স্বাস্থ্য প্রতিকূলতা। কী এই কোলেস্টেরেল? কীভাবে বাড়ে? এবং বৃদ্ধিতে কি কী করণীয়? কতদিন অন্তর চেক আপ করাতে হবে এসব ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলেছেন ফাতেমা সিদ্দিকী ছন্দা, বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতাল ও ইবনেসিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ডায়াটিশিয়ান ও নিউট্রিশন কনসালটেন্ট তিনি। 

কোলেস্টেরেল পরিচিতিঃ

কোলেস্টেরেল এক প্রকার চর্বি যা রক্তের মধ্যে থাকে। একতি নির্দিষ্ট মাত্রায় কোলেস্টেরেল থাকা ভয়ের কিছু নয়। বরং প্রয়োজনীয়। এই কোলেস্টেরেল আমাদের শরীরে কোষ তৈরি ও ভিটামিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে বিধায় এর গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু বিপত্তি বাধে যখন এই কোলেস্টেরেল মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। 

শরীরে কোলেস্টেরেল আসে মুলত দুটি উতস থেকে। প্রথমত আমাদের লিভারই সকল প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরেল উপাদন করে। এছাড়া আমরা খাবার থেকেও কোলেস্টেরেল পেয়ে থাকি যার মধ্যে রেড মিট ও হাস, মুরগী এবং দুগ্ধজাত খাবার থেকে।  আর খাবার থেকে প্রাপ্ত কোলেস্টেরেলগুলোতে স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাট অনেক বেশি পরিমাণে থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 

বেশ কয়েক প্রকারের কোলেস্টেরেল রয়েছে। যেমন ট্রাইগ্লিসারাইড, এইচ ডি এল, এল ডি এল ও টোটাল কোলেস্টেরেল। এদের একটি বাদে সবই মানব্দেহের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরেল। 

কোলেস্টেরেল কেন বৃদ্ধি পায়ঃ 

  • অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে।
  • রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করা বা অনেক বেশি ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার কারণে বাড়তে পারে।
  • অনেকেই আছেন বেশিরভাগ সময় কায়িক পরিশ্রম না করেই কাটান। তাদের যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে কোলেস্টেরলের মাত্রা।

উপরের কারণগুলো শরীরের ভালো কোলেস্টেরেলের (এইচ ডি এল)পরিমাণ কমিয়ে ক্ষতিকর কোলেস্টেরেলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি ধূমপান,জর্দা সেবন, মদ্যপান এর কারণেও শরঈরে খারাপ কোলেস্টেরেলের মাত্রা বাড়তে পারে। এর মধ্যে যারা ডায়াবেটিক ও উচ্চরক্তচাপ রয়েছে যাদের তারা ডিস্লিপিডেমিয়া হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়।  

কী কী ঝুঁকি তৈরি হয়?

ক্ষতিকর কোলেস্টেরেল বেড়ে গিয়ে ভালো কোলেস্টেরেলের মাত্রা কমে গেলে শরীরে স্বাস্থ্য ঝুকি চরম মাত্রায় বাড়তে পারে। এই কোলেস্টেরেল গুলো জমা হয় শরীরের রক্তনালীতে। যখন এই পরিমাণ বেড়ে যায় তখন রক্ত চলাচলে বাধা প্রাপ্ত হয়। যা পরবর্তীতে হার্ট এ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুকি বাড়ায়। 

কারো যদি লিপিড প্রোফাইলে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় তাহলে শুরু থেকেই সচেতন হওয়া জরুরী। পুষ্টিবীদদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য তালিকা বাছাই করে সে অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।  

কোলেস্টেরেক বেড়ে গেলে কেমন হওয়া উচিত খাদ্য তালিকাঃ

বেশকিছু বিষয়ের উপর ভিত্তি করে খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত একজন ডিসলিপিডেমিয়া রোগঈর তা নির্ধারণ করা হয়। তবে সাধারণ কিছু বিষয় আছে যা সকলের জন্য প্রযোজ্যঃ

১। মৌসুমি ফল শাকসবজি থেকে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে। প্রতিদিন ভিটামিন এ যুক্ত কাঁচা শাকসবজি সালাদ হিসেবে খেতে হবে।

২। খাদ্য তালিকা থেকে সরল শর্করা বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।

৩। মিক্সড বাদাম, কাঁচা ও দেশি রসুন, তেঁতুল খেতে পারেন। এগুলো খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তবে পরিমাণ জানতে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।

৪। রান্নায় তেলের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সানফ্লাওয়ার অয়েল, রাইসব্রান অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। কয়েকটি তেল একসঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়।

৫। রেড মিট বা হাঁসের মাংস খেতে চাইলে অবশ্যই চর্বি ছাড়া রান্না করতে হবে। তবে কোলেস্টেরল না কমা পর্যন্ত না খাওয়াটাই ভালো।

৬। নিয়মিত  কিছুক্ষণ হাঁটতে হবে বা ব্যায়াম করতে হবে দৈনিক।

৭।  মদ্যপানের ও ধূমপান অভ্যাস বাদ দিতে হবে।

৮।  খাদ্য তালিকায় প্রথম এক মাস দুধ না খেয়ে সরছাড়া টক দই রাখতে হবে।

চেক আপঃ

একজন ডিসলিপিডেমিয়া রোগীকে প্রতি তিন থেকে ছয় মাস অন্তর অন্তর চেক আপ করানো উচিত।  বডি ফাস্টিং লিপিড প্রোফাইল খালি পেটে আট ঘন্টা থেকে পরীক্ষা করতে হয়। 

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button