কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন মোবাইলে জানুন বিস্তারিত

শুনতে বেশ অবাক হলেও সত্য যে প্রোডাক্ট প্রোমোশনের ক্ষেত্রে ৮২% অনলাইন ট্র্যাফিক ভিডিও কন্টেন্টের মাধ্যমে নিজেদের এনগেজমেন্ট বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই সময়ের সাথে সাথে ভিডিও কন্টেন্টের চাহিদা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সময়ে তেমনি জনপ্রিয় একটি ভিডিও কন্টেন্ট প্লাটফর্ম হল ইউটিউব। ইউটিউবকে শুধু মানুষ এন্টারটেইনিং মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে তা কিন্তু নয়। বরং পড়াশোনা,স্কিল শেয়ার,নলেজ শেয়ার,সেলস ,প্রোডাক্ট প্রোমোশনের ক্ষেত্রেও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আপনার বিজনেস বুস্টআপ করার ক্ষেত্রে, কীভাবে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হয় চলুন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন মোবাইলে

ইউটিউব চ্যানেলে ক্রিয়েটের ধাপ কী?

একটি এন্টারটেইনিং মাধ্যম হিসেবে ইউটিউব প্রতিষ্ঠা পেলেও বর্তমানে ইউটিউব কিন্তু হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্নিং সোর্স হিসেবে। তাই ইউটিউবে আপনার আইডেন্টিটি ক্রিয়েট করতে হলে সবার এই আপনার প্রদান কাজটি হল একটি অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করা। তাই আপনি যদি ইউটিউবে একটি চ্যানেল ক্রিয়েট করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে নিম্নোক্ত ধাপসমূহ অবলম্বন করতে হবে –

১.গুগল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন

২.গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করুন।

৩.কাস্টমাইজ চ্যানেল পেইজ নেভিগেট করুন—

৪.চ্যানেলের ডিস্কভারিটির জন্য বেসিক ইনফো এড করেন।

৫.চ্যানেলে ব্র্যান্ডিং কনটেন্ট আপলোড করেন।

৬.অ্যাডভান্স লেআউট অপশন কাস্টমাইজ করুন।

৭.ভিডিও আপলোড করুন এবং তা স্ক্র্যাচ থেকে অপ্টিমাইজ করুন।

অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েটে যদি সমস্যা হয়

অনেক সময় অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করতে গেলে সে রিকোয়েস্ট ডিলে করে দেওয়া হয়। আপনি যদি দেখেন যে ” This action isn’t alowed’ নামক কোন অপশন আসছে সেক্ষেত্রে হয়ত আপনি ফেসবুকের আউটডেটেড ভার্সনটি ব্যবহার করছেন। তাই এক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করতে হলে আপনাকে-

-ডিভাইস রিস্টার্ট দিতে পারেন।

-আপনার ডিভাইসে ফেসবুক অ্যাপ আপডেট করতে হবে।

-ব্রাউজারে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে হবে।

কীভাবে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন?

বর্তমানে এই মডার্ন টেকনোলজি ফিল্ডে আপনার অবস্থান স্ট্রং করতে একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকা বাঞ্ছনীয়। অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে আপনি আপনার ডিভাইসে খুব সহজে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারবেন। কিন্তু তা কীভাবে চলুন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-

1.গুগল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন

আপনার অবশ্যই ইউটিউব চ্যানেল দেখার ক্ষেত্রে, শেয়ারিং এর ক্ষেত্রে, তৈরির ক্ষেত্রে কিংবা কমেন্ট করার ক্ষেত্রে একটা গুগল অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হবে।

-তাই এক্ষেত্রে আপনাকে www.youtube.com এ গিয়ে উপরের ডানদিকের সাইনইন অপশনে ক্লিক করতে হবে।

-গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইউটিউব চ্যানেল ওপেন করুন।

-মাল্টিপল অ্যাকাউন্ট থেকে ইউটিউব চ্যানেল ওপেনিং এর জন্য গুগল অ্যাকাউন্ট সিলেক্ট করুন।

-গুগল অ্যাকাউন্ট না থাকলে “Creat Google account ” অপশন থেকে গুগল অ্যাকাউন্ট

২.গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইউটিউব চ্যানেল ক্রিয়েট করুন—

আপনি যখন গুগল অ্যাকাউন্টে সাইনআপ করবেন তখন আপনি ইউটিউব চ্যানেল ক্রিয়েট করতে পারবেন। উপরের ডান কর্নারে user icon এ ক্লিক করুন। যা একই সাথে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট এবং ইউটিউব চ্যানেল রিপ্রেসেন্ট করে। আপনি সেখানে dropdown মেনু দেখতে পারবেন যেখানে আপনাকে settings এ ক্লিক করতে হবে। সেখান থেকে আপনাকে আপনার account overview তে যেতে হবে। এবং create new channel এ ক্লিক করতে হবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই

সেখানে গিয়ে আপনাকে সবার আগে আপনার চ্যানেলের জন্য একটি নাম নির্ধারণ করতে হবে। এটি যেকোনো নাম হতে পারে। তবে আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নাম এড করা থেকে বিরত থাকুন। এমন একটি নাম সিলেক্ট করুন যা আপনার ইউটিউব ব্র্যান্ডিং এ বেশ সাহায্য করবে। আপনার অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই হওয়ার পর আপনার চ্যানেলের ড্যাশবোর্ডে গিয়ে কাস্টমাইজ করতে হবে।

৩.কাস্টমাইজ চ্যানেল পেইজ নেভিগেট করুন—

এ ধাপে আপনাকে আপনার চ্যানেলের ফান্ডামেন্টাল ইনফরমেশন এড করতে হবে। তাই চ্যানেল ড্যাশবোর্ড থেকে customize channel নামক অপশন এড করতে হবে। পরবর্তীতে আপনাকে channel customization page এ ক্লিক করতে হবে। সেখানে আপনি তিন ধরনের ট্যাব দেখতে পারবেন। তা হল –

১.লেআউট

২.ব্র্যান্ডিং

৩.বেসিক ইনফো

এই তিনটি ট্যাব আপনার চ্যানেল কাস্টমাইজেশন হতে সাহায্য করে।

৪.চ্যানেলের ডিস্কভারিটির জন্য বেসিক ইনফো এড করেন।

এ ধাপের শুরুটা আপনাকে basic info ক্লিকের মাধ্যমে শুরু করতে হবে। তাই এটি এমন একটি মাধ্যমে যেখানে আপনি আপনার চ্যানেলের বেসিক ইনফরমেশন এড করতে পারবেন। আপনার ভিডিও এর ল্যাঙ্গুয়েজ এড করতে পারবেন ,বরং একটি অসাধারণ ডেসক্রিপশন এড করতে পারবেন যা দেখে আপনার অর্ডিয়েন্স বুঝতে পারবে যে তারা যে ধরনের ভিডিও চাচ্ছে এটি ঠিক তেমন ধরনের একটি ভিডিও কিনা। এখানে কি ওয়ার্ড যুক্ত করার মাধ্যমে আপনার চ্যানেল ঠিক কি ধরনের কন্টেন্ট বানাচ্ছেন, কীভাবে তা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে ,ফিচার ,ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে প্রকৃত ধারণা দিবে।

আপনি চাইলে এখানে সাইটের লিংক আপনার ভিউয়ার্সদের জন্য এড করতে পারেন। এ লিংক ব্যানার ইমেজের উপর শো করবে।

৫.চ্যানেলে ব্র্যান্ডিং এলিমেন্ট আপলোড করুন

ভিজুয়্যালি আপনার ভিডিওকে কাস্টমাইজ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল এটি। ব্র্যান্ডিং ট্যাবের নিচে আপনি প্রোফাইল পিকচার,ব্যানার ইমেজ এবং ভিডিও ওয়াটার-মার্ক এড করতে পারবেন।

  • প্রোফাইল পিকচার

একটি প্রোফাইল পিকচার ব্র্যান্ডিংয়ের সময়ে আপনার অর্ডিয়েন্সকে আপনার সাথে আইডেন্টিফাই করতে সাহায্য করে। আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন যে এই ছবি আপনার চ্যানেলের ভিডিও প্লে হবার সময় প্লে পেইজ এ থাকে। ইউটিউব প্রোফাইল পিকচারের ক্ষেত্র ৯৮x ৯৮ পিক্সেল নির্ধারণ করে দিয়েছে।

  • ব্যানার ইমেজ

ব্যানার ইমেজ হলে এক ধরনের লার্জ ইমেজ যা চ্যানেল পেইজের টপে অবস্থান করে। আপনার ব্যান্ডকে আপনার অর্ডিয়েন্স এর সাথে কানেক্টেড করতে এটি বেস্ট একটি অপশন। ইউটিউব ব্র্যান্ড ইমেজের ক্ষেত্রে ২০৪৮x ১১৫২ কিংবা ৬ এমবি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

  • ভিডিও ওয়াটারমার্ক

ভিডিও ওয়াটারমার্ক প্রায় সকল ভিডিও এর রাইট কর্নারে অবস্থান করে। এক্ষেত্রে আপনাকে ১৫০x ১৫০ লোগো নির্ধারণ করতে হবে।

৬.অ্যাডভান্স লেআউট অপশন নির্বাচন করুন।

এই ক্ষেত্রে আপনার ভিডিও কন্টেন্ট চ্যানেলে ঠিক কীভাবে প্রেজেন্ট করতে হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। এক্ষেত্রে কীভাবে আপনি অ্যাডভান্স ফিচার ব্যবহার করে আপনার ভিডিও হাইলাইট করবেন সে বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে হবে।

৭.ভিডিও আপলোড করুন এবং তা স্ক্র্যাচ থেকে অপ্টিমাইজ করুন।

youtube এ আপনার প্রথম ভিডিওটি আপলোড করার জন্য রাইট কর্নারের ” creat ” অপশন থেকে ক্লিক করুন এবং নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন মোবাইলে

আপনার চ্যানেল অপটিমাইজেশন করা মূলত ধাপটি শুরু হওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত করে । তাই আপনাকে ভিডিও আপলোডের ক্ষেত্রে স্ক্র্যাচ থেকে এ প্রক্রিয়াটি শুরু করতে হবে যা ব্যবহারকারীদের আপনার ভিডিও অপটিমাইজেশন করতে সাহায্য করবে। কিন্তু ভিডিও আপলোডের ক্ষেত্রে আপনাকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন টাইটেল,ডেসক্রিপশন ,লোকেশন অনেক বিষয় এড করতে হবে। তাই অপটিমাইজেশন এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় সম্পর্কে চলুন আলোচনা করা যাক-

  • টাইটেল

ভিডিও সার্চ করার ক্ষেত্রে যে জিনিসটা আমাদের প্রথমে চোখে পড়ে তা হল টাইটেল।এটির উপর নির্ভর করে যে একজন ভিজিটর কি ভিডিও ক্লিক করবে কিংবা করবে না। তাই এমন টাইটেল ভিডিওতে এড করতে হবে যা ভিজিটরদের কনফিউজ না করে ক্লিয়ার একটি ধারণা দিবে।

  • ডেসক্রিপশন

আপনার ভিডিওতে ডেসক্রিপশন এর লিমিটেশন হতে হবে ১০০০ ক্যারেক্টার।মনে রাখতে হবে আপনার ভিজিটর এখানে আপনার ভিডিও দেখার উদ্দেশ্যে এসেছে টেক্সট পড়তে নয়।তাই ভিডিও এর ডেসক্রিপশন এমন হতে পারে যা আপনার ভিজিটরকে ভিডিও দেখতাম বাধ্য করবে।

  • ট্যাগ

ট্যাগ শুধু আপনার ভিডিওর ধরণ নির্দেশ করে তা কিন্তু নয়।বরং এটি ইউটিউব বুঝাতে সাহায্য করে যে আপনার ভিডিও কন্টেন এবং কন্টেক্সকে।যেখানে একই ধরনের ভিডিও এত উপর অনেক কন্টেন্ট রয়েছে সেক্ষেত্রে আপনাকে ট্যাগ আপনার ভিডিওকে আলাদা করে তুলতে সাহায্য করে।

  • ক্যাটাগরি

একই ধরনের ভিডিওসমূহকে গ্রুপিং করার ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি সাহায্য করে। কিন্তু এটি এতটা সহজ নয়।ইউটিউবার ক্রিয়েটর একাডেমি বলেছে যে মার্কেটারগণ বুঝতে পারে যে কোন ধরনের ক্যাটাগরি ভালো রান করছে।

-এই ক্যাটাগরিতে কারা টপ পারফর্মেন্স করছে?তারা কি নামে পরিচিত এবং তারা কি নিয়ে কাজ করছে?

-একই ধরনের ক্যাটাগরির দুটি ভিন্ন ভিন্ন চ্যানেলে অর্ডিয়েন্স এর প্যাটার্ন এর ধরণ কি?

-একই ক্যাটাগরি দুটি ভিন্ন চ্যানেলে কি প্রোডাক্ট ভ্যালু,লেংথ কিংবা কোন ফরম্যাট রয়েছে?

তাই এক্ষেত্রে চ্যানেল ওপেন করে বসে না থেকে কন্টেন্ট কোয়ালিটির ডেভেলপমেন্টের দিকে আপনাকে ফোকাস করতে হবে।

  • উপসংহার-

আশা করি আজকের আলোচনা কীভাবে কীভাবে ইউটিউব চ্যানেল ওপেন করবেন সম্পর্কে স্পষ্ট দাঁড়ানোর অর্জন করতে পেরেছেন।তাই এই সংক্রান্ত আপনার মূল্যবান মতামতটুকু জানিয়ে দিতে পারেন আমাদের কমেন্ট সেকশনে।

Leave a Comment