এক মাসের শিশুর যত্ন । জেনে রাখা প্রয়োজন

নতুন মা বাবা হওয়ার পর বোঝা যায় যে সদ্যোজাত শিশুদের যত্ন নেওয়া কত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ। শিশুদের খাওয়ানো, গোসল করানো, ঘুমানো সব কিছুই সময় ও ধৈর্য সাপেক্ষের বিষয়। এক মাসের শিশুর ক্ষেত্রে আরও সাবধানতা অবলম্বন করে তাদের যত্ন নিতে হয় কারণ ছোট শিশুরা খুব সেনসেটিভ হয়ে থাকে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানব এক মাসের শিশুর যত্ন নিতে হলে কী কী পন্থা অনুসরণ করতে হবে। 

শিশুর বৃদ্ধি বিকাশ: 

জন্মের সময় শিশুরা শরীরে অতিরিক্ত তরল নিয়ে জন্মায়। তবে, জন্মানোর কিছু দিনের মধ্যে সেই অতিরিক্ত তরল শরীর থেকে চলে যায়। এর ফলে ১ মাসের মধ্যে শিশু যে ওজন নিয়ে জন্মায় তার প্রায় ৯ থেকে ১০ শতাংশ কমে যায়। তবে এটি স্থায়ী নয় তাই এ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এক মাস বয়সী একটি শিশুর ওজন প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ গ্রাম করে বাড়তে পারে। এটি সদ্যোজাত এর জন্য বেশ স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া। জন্মের এক থেকে দুই সপ্তাহ পর মা বাবা বুঝে যান যে তার বাচ্চার ওজন কতটা বাড়ছে বা আদৌ বাড়ছে কি না। যদি এক মাস পরেও ওজন না বাড়ে সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তারের দেওয়া পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে হবে যে আসলে কী সমস্যায় তাদের বাচ্চার বৃদ্ধি হচ্ছে না। এক মাসের শিশুর যত্ন করার ক্ষেত্রে তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশের দিকে নজর রাখা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। শুধু ওজন নয়, শিশুর উচ্চতা, মাথার পরিধি এই সবের ওপরেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তাছাড়া, দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করাও জরুরি। শিশু এক মাস বয়সে হয়তো খুব বেশি নিজের মনের ভাব বোঝাতে পারবে না। তবুও তার যোগাযোগ করার ক্ষমতা কতটা সেটিও পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে। 

চার সপ্তাহের শিশুর কর্মকাণ্ড কেমন হয়? 

এক মাসের শিশুর যত্ন নেওয়ার আগে জেনে নেওয়া উচিত তাদের সেই সময়ের আচরণ এর বিষয়ে তাহলে তাদের সাথে সময় কাটানো বেশ সহজ মনে হবে। 

প্রথমেই দেখা যাবে যে এক মাসের শিশু মুখ দিয়ে গার্গল করার মত শব্দ তৈরি করবে অথবা কু বা ব্যাবেল জাতীয় দুর্বোধ্য আওয়াজ করবে। এর মাধ্যমে আসলে সে তার অভিভাবক এর সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করে। এই সময় মা বাবা হিসেবে আপনার উচিত শিশুর যোগাযোগ এর চেষ্টায় সাড়া দেওয়া। এতে সে উসাহিত হবে৷ এতে শিশুর বাক শক্তি ও শ্রবণ শক্তির বিকাশ ঘটবে। মানসিক ভাবেও আপনার ওপর তার নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে। চেনা কণ্ঠ বা চেনা মুখ শিশুর মাথায় ছবির মত থাকবে। এক মাস বয়েসী শিশু ১২ ইঞ্চি দূরে তার দৃষ্টি নিতে পারে ও চোখ চারদিকে ঘোরাতে পারে। চার সপ্তাহের শিশুর উচ্চতা চার ইঞ্চি ও ওজন ১০০ থেকে ১৪০ গ্রাম মত বাড়তে পারে। শিশু কখনো কখনো মাথা তুলতে চাইবে বা তার মধ্যে নতুন কাজ বাজ করার প্রবণতা দেখা যাবে৷ এসময় তাই সর্বক্ষণ তার পাশে থেকে তাকে নজরদারিতে রাখা উচিত। শারীরিক বিকাশ, শ্রবণ শক্তির বিকাশ ও দৃষ্টি শক্তির বিকাশের পাশাপাশি এসময় তার স্বাদ চেনার ক্ষমতা হয় ও ঘ্রাণ শক্তিও বেড়ে যায়। যেমন: সে দুধের গন্ধ চিনতে পারে ও তেতো, টক এই স্বাদ গুলো বোঝার ক্ষমতা তৈরি হয়। 

এক মাসের শিশুর যত্ন নেওয়ার পদ্ধতি :

. খাবার: এক মাস বয়েসী শিশু পর্যাপ্ত পরিমাণ বুকের দুধ পাচ্ছে কি না বা ঠিক মত খাচ্ছে কিনা তা খেয়াল করতে হবে। সাধারণত দুই তিন ঘন্টা বাদে এক বার করে শিশুরা দুধ খায়। সে হিসেবে দিনে এক মাসের বাচ্চা ৭-৮ বার দুধ খাবে৷ এই পরিমাণ দুধ খেলে বলা যায় যে সে পর্যাপ্ত পরিমাণ দুধ খাচ্ছে। আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত যে দুধ শিশু গিলছে কি না ঠিক মত। শিশু খেতে খেতে খাওয়া থামিয়ে কখনো বিশ্রাম নিয়ে থাকে৷ এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ইচ্ছে হলে শিশু নিজে থেকে খাবে৷ এক মাসের শিশুকে জোর করে খাওয়ানো অনুচিত। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। 

. পায়খানা: এক মাস বয়সের শিশু সপ্তাহে এক থেকে দুই বার পায়খানা করে থাকে। পায়খানার রঙ সাধারণত হলুদ হয়। উল্লেখ্য যে, এক মাসের শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য আলাদা ওষুধের প্রয়োজন হয় না। তবে দিনে এক মাসের শিশু ছয় থেকে আটবার প্রসাব করতে পারে। 

. ডাক্তারের কাছে চেকাপ: এক মাসের শিশুর যত্ন নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল তাকে প্রথম সপ্তাহে এক বার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং ষষ্ঠ সপ্তাহে একবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া। এছাড়াও বিশেষ কিছু সময়ে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে যেমন- তার পেট খুব ঠান্ডা বা গরম হলে, হাত পা হলুদ হলে, খেতে না চাইলে, শ্বাস নিতে গেলে শো শো শব্দ হলে, কান্না বন্ধ না হলে, বমি হলে ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। 

. শিশুর সাধারণ যত্ন: শিশু কান্নাকাটি করলে তাকে কম্বলে জড়িয়ে রাখতে হবে। শিশুকে গান গেয়ে শোনানো যেতে পারে বা মৃদুভাবে দোল দেওয়া যেতে পারে শান্ত করার জন্য। 

. গোসল: একমাসের শিশুকে এক দিন পর এক দিন গোসল করানো উচিত৷ আর এক মাস পার হলে প্রতিদিন গোসল করানো যাবে। অবশ্যই ফোটানো কুসুম গরম জলে শিশুকে স্নান করাতে হবে। গোসলের আগে শিশুর শরীরে অলিভ অয়েল মালিশ করা যেতে পারে। শিশুর ত্বকে কম ক্ষার যুক্ত সাবান ব্যবহার করতে হবে।  

. ঘুম: শিশুর ঘুমের স্থান আরামদায়ক ও নিরাপদ হতে হবে। মাথার বালিশ এক ইঞ্চি উচ্চতার হলে ভালো হয় এক মাস বয়সের শিশুর জন্য। এতে তার ঘাড় বেশি উঁচু হয়ে থাকবে না। শিশুর দু পাশে কোলবালিশ দিতে হবে ও প্রয়োজন অনুযায়ী কাঁথা ও লেপের ব্যবহার করা উচিত। এক মাসের শিশুকে একা ঘুমোতে দেওয়া যাবে না৷ মায়ের সাথে ঘুমানোই ভালো। 

এক মাসের শিশুর যত্ন নেওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি উপরে আলোচনা করা হয়েছে। যারা সদ্য বাবা মা হয়েছেন তাদের এক মাসের শিশুর যত্ন কীভাবে নিতে হয় তা জেনে রাখা প্রয়োজন খুব। এক মাসের শিশুর যত্ন কীভাবে নিতে হয় তা জানার জন্য এই প্রতিবেদনটি আপনাদের উপকারে আসতে পারে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button