ইউরোপের কোন দেশে যেতে কত টাকা লাগে

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের যে কোন দেশে যেতে হলে কমপক্ষে আট থেকে দশ লাখ টাকা বাজেট ধরতে হবে৷

জেনে নিন ইউরোপের কোন দেশে যেতে কত টাকা লাগে 

সব মানুষের স্বপ্ন উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে যাওয়া। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে, সেসব দেশের ভিসা দুর্লভ ও যাওয়াও খরচ সাপেক্ষ। তাই, আজকের বিস্তারিত আলোচনা বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের কোন দেশে যেতে কেমন খরচ লাগে এই নিয়ে। 

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়? 

বর্তমানে সহজে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের যে দেশগুলোতে যাওয়া যায় সেগুলো হলো: 

ইটালি, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, রোমানিয়া, ফ্রান্স, পর্তুগাল, হাঙ্গেরি, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, মাল্টা, পোল্যান্ড প্রভৃতি। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এদেশগুলোর ভিসা পাওয়া সহজ তুলনামূলক ভাবে। 

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ যেতে কত টাকা লাগে? 

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের যে কোন দেশে যেতে হলে কমপক্ষে আট থেকে দশ লাখ টাকা বাজেট ধরতে হবে৷ তবে এটি কম-বেশি হতে পারে। 

ইটালি: ইটালি যাওয়ার জন্য চারপ্রকার ভিসা আছে। সিজনাল ভিসা, ননসিজনাল ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা ও ভিজিট ভিসা। সিজনাল ভিসায় ৩-৬ মাস অবস্থান করা যায় ও ৪ লাখ টাকা লাগে। ননসিজনাল ভিসা হল ওয়ার্ক ভিসা। এর জন্য ৯-১০ লাখ থেকে ১৮ লাখ টাকা লাগতে পারে। স্টুডেন্ট ভিসার জন্য খরচ ৬০ হাজার টাকা। ভিজিট বা ভ্রমণ ভিসার খরচ ৪ লাখ টাকা। 

জার্মানি: বাংলাদেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় জার্মানি গেলে ৮-১২ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। 

রোমানিয়া: দুই ভাবে রোমানিয়ার ভিসা পাওয়া যায়। সরকারিভাবে ও এজেন্সির দ্বারা। সরকারি ভাবে রোমানিয়া গেলে ৫-৬ লাখ টাকা লাগবে। এজেন্সির মাধ্যমে রোমানিয়া গেলে ৮-১০ লাখ টাকা লাগবে। 

পর্তুগাল: বর্তমানে পর্তুগালের ৪ রকম ভিসা পাওয়া যায়। স্টুডেন্ট ভিসায় খরচ হয় ৫ লাখ টাকা। ভিজিট ভিসায় খরচ হয় ৩-৪ লাখ টাকা। মেডিকেল ভিসায় পর্তুগাল যেতে খরচ হয় প্রায় ৪ লাখ টাকা। ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় খরচ হয় ৯-১০ লাখ টাকা। 

ফ্রান্স: ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় ফ্রান্স যাবার খরচ ৪-৫ লক্ষ টাকা এবং ভিজিট ভিসার খরচ ৩-৪ লক্ষ টাকা। 

সুইজারল্যান্ড: সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া কঠিন। প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা লাগে এক্ষেত্রে। এছাড়া, সে দেশে ভিজিট ভিসায় গেলে ৫ লাখ টাকা লাগতে পারে। 

মাল্টা: সরকারি ভাবে মাল্টা যেতে ৩ লাখ টাকা লাগতে পারে। বেসরকারি ভাবে এজেন্সির মাধ্যমে গেলে ৬-৮ লাখ টাকা লাগে। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে মাল্টা গেলে ২-৩ লাখ টাকা লাগতে পারে। 

পোল্যান্ড: ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পোল্যান্ড গেলে ৫ লাখ টাকা লাগতে পারে। তবে, কোম্পানির মাধ্যমে গেলে খরচ আরও কমে যায় কারণ কিছু খরচ কোম্পানি বহন করে থাকে। ভিজিট ভিসায় পোল্যান্ড গেলে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে পুরো প্রসেস হয়ে যায়। 

নেদারল্যান্ডস: সরকারি ভাবে নেদারল্যান্ড যেতে ৪-৫ লক্ষ টাকা খরচ দেখানো হলেও আদতে তা ৯-১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। 

ফিনল্যান্ড: নিজে আবেদন করে ভিসা করলে ২ লাখ টাকা লাগতে পারে। তবে, এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা করলে ৬-৮ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। স্টুডেন্ট ভিসায় স্কলারশিপ পেলে খরচ অনেকটাই কমে যায়। 

ইউরোপে কাজের ভিসা পাবার উপায়: 

ইংরেজি ভাষায় ভালো দক্ষতা থাকলে এবং IELTS স্কোর ভালো হলে ইউরোপে হাই প্রোফাইল কাজের জন্য আবেদন করা যায়। ইউরোপে চেনা কোন বন্ধু বা আত্মীয় পরিজন থাকলেও তাদের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করালে ভিসা পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। এছাড়া, বিভিন্ন ইউরোপীয় জব সাইট গুলোতে নজর রাখতে হবে। সেখানে জবের জন্য আবেদন জানালে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া যায়। এছাড়া, অর্থ ও সময় হাতে থাকলে এজেন্সির মাধ্যমে ভিসার আবেদন করালে ভিসা পাওয়া একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়। 

বাংলাদেশি অনেক মানুষেরই স্বপ্ন বিদেশ যাওয়া। তা যদি ইউরোপের মত উন্নত দেশ হয় তাহলে তো কথাই নেই। তবে, সাবধানতা অবলম্বন করার কোন বিকল্প নেই। দালাল চক্রের হাতে পড়ে যেন টাকা আর সময় অপচয় না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button